রাজনীতি ডেস্ক
জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও পটুয়াখালী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে তার হৃদযন্ত্রের জটিলতা পরীক্ষার জন্য এনজিওগ্রাম করার কথা রয়েছে। বর্তমানে তিনি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এন এ এম মুমিনুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।
পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে রুহুল আমিন হাওলাদারকে প্রথম ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সে সময় চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার শরীরে উচ্চ রক্তচাপের উপস্থিতি শনাক্ত করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি বাসায় ফিরে যান এবং বিশ্রামে থাকেন।
তবে গতকাল বুধবার (২০ মে) রাতে বাসায় অবস্থানকালীন সময়ে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। বুকে অস্বস্তি ও রক্তচাপের তারতম্য দেখা দিলে রাতেই তাকে জরুরি ভিত্তিতে পুনরায় ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সিসিইউতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাবেক এই মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল হলেও তিনি এখনো ঝুঁকিমুক্ত নন। উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদযন্ত্রের জটিলতার কারণে তাকে সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আজকের এনজিওগ্রাম রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তার পরবর্তী চিকিৎসা কার্যপদ্ধতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন মেডিকেল বোর্ড।
এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বাংলাদেশের রাজনীতির একজন পরিচিত মুখ এবং জাতীয় পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতা। তিনি পটুয়াখালী-১ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গন ও তার নির্বাচনী এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। জাতীয় পার্টির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দর্শনার্থীদের ভিড় এড়াতে এবং রোগীর পূর্ণ বিশ্রামের স্বার্থে বর্তমানে সিসিইউতে গমনাগমন সীমিত করা হয়েছে।