আদালত ও আইনি ডেস্ক
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২ জুলাই নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ সোমবার (১৮ মে, ২০২৬) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত দিন থাকলেও তদন্ত সংস্থা অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন। এ নিয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৯৫ বারের মতো সময় নিল তদন্ত সংস্থা।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে সুইফট কোড ব্যবহার করে আট কোটি ১০ লাখ ডলার (তৎকালীন বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৮০০ কোটি টাকা) হাতিয়ে নেয় আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী চক্র। চুরি হওয়া এই অর্থ পরবর্তীতে ফিলিপাইনের ‘রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন’ (আরসিবিসি)-এর জুপিটার স্ট্রিট শাখার চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখান থেকে তা ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পাচার হয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই দেশী ও আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থাগুলো অর্থ উদ্ধারে কাজ শুরু করে। সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক ধারণা, দেশের অভ্যন্তরের কোনো চক্রের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহায়তায় আন্তর্জাতিক হ্যাকার গ্রুপটি রিজার্ভের এই অর্থ পাচার করতে সক্ষম হয়েছিল।
এই ঘটনার প্রায় এক মাস পর, ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে রাজধানীর মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)-এর ৪ ধারাসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬-এর ৫৪ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩৭9 ধারায় অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।
দীর্ঘ এক দশকেও মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। তারা বলছেন, রিজার্ভ চুরির মতো একটি বড় আন্তর্জাতিক অপরাধের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন বারবার পিছানোর ফলে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা এবং পাচার হওয়া বাকি অর্থ ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। সিআইডি সূত্র জানিয়েছে, অপরাধের আন্তর্জাতিক সংযোগ, হ্যাকারদের অবস্থান শনাক্তকরণ এবং বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার জটিলতার কারণেই তদন্ত শেষ করতে সময় বেশি লাগছে। নতুন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি চূড়ান্ত বা অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার লক্ষে কাজ করছে তদন্ত সংস্থা।