আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংজি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের লিউঝৌ শহরের লিউনান জেলায় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ২ মাত্রার এই ভূকম্পনে অন্তত ১৩টি আবাসিক ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে এবং ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে উপদ্রুত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় ভূমিকম্প ত্রাণ সদর দপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সময় সোমবার ভোররাতে অঞ্চলটিতে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। আকস্মিক এই দুর্যোগের সময় বাসিন্দারা ঘুমন্ত থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভূমিকম্পের পরপরই লিউঝৌ শহরের উপদ্রুত এলাকাগুলো থেকে সাত হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। একই সাথে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি আশ্রয় ও চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে যে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। নিহতরা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। তাদের বয়স যথাক্রমে ৬৩ এবং ৫৩ বছর। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবন ধসের ফলে চাপা পড়েই তাদের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ অপর ব্যক্তির সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস ও বিশেষ উদ্ধারকারী দল আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় ওই অঞ্চলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে যোগাযোগ ও পরিবহন ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়েছে। রেললাইনের ওপর মাটি ও পাথরের স্তূপ ধসে পড়া এবং ট্রাফিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় রেল কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল স্থগিত বা ধীরগতির করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রেললাইন ও অন্যান্য অবকাঠামোর সামগ্রিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করছেন প্রকৌশলীরা। পরিবহন ব্যবস্থায় এই সাময়িক বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে সাধারণ যাত্রীদের আগাম সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
তবে পরিবহন খাতে কিছুটা অচলাবস্থা তৈরি হলেও অন্যান্য জরুরি নাগরিক সেবাগুলো এখনো সচল রয়েছে। দুর্যোগ কবলিত এলাকাগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্কসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ লাইন এবং গ্যাস সংযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো। সড়কগুলোতে যান চলাচলও বড় ধরনের কোনো ব্যাঘাত ছাড়াই চালু রয়েছে, যার ফলে উদ্ধারকারী যানবাহন এবং ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোর কাজ সহজতর হচ্ছে।
ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূতাত্ত্বিক কাঠামোর কারণে চীনের কিছু অঞ্চল দীর্ঘকাল ধরেই ভূমিকম্পপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। এই ভূমিকম্পের পর ওই এলাকায় আরও আফটারশক বা অনুকম্পন অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন আবহাওয়াবিদ ও ভূবিজ্ঞানীরা। সে লক্ষ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঘটনার সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং উপদ্রুত নাগরিকদের পুনর্বাসনের জন্য স্থানীয় সরকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করে কাজ শুরু করেছে।