1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে নাটোরে জেলা বিএনপির আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত দেশ গঠনে নাগরিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শহীদ জিয়ার দেশপ্রেম ও সততা তরুণদের জানাতে হবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী স্বাধীনভাবে নেতাকে স্মরণ করার সুযোগ হয়েছে ১৭ বছর পর : মির্জা ফখরুল পরপর দুই ম্যাচে একই কায়দায় হিট উইকেট: অনন্য রেকর্ডে সু সুদর্শন সোনারগাঁয়ে নানা কর্মসূচিতে শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উদযাপিত শাহজালাল বিমানবন্দরের নতুন এটিসি টাওয়ারের সুফল: রেকর্ড ১৯৯ কোটি টাকা ওভার ফ্লাইং চার্জ আদায় জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী: রাজধানীতে বিএনপির খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ শুরু ৪১৯ যাত্রী নিয়ে দেশে ফিরল হজের প্রথম ফ্লাইট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য চীন সফর জুনের শেষে

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ২২ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক

বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ আরও নিবিড় হতে শুরু করেছে। দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যেতে আগামী জুনের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বেইজিং সফরে নিতে আগ্রহী চীন। চীনের পক্ষ থেকে সফরের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী এই রাষ্ট্রীয় সফরটি দুই দিনের বেশি হতে পারে।

সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, প্রধানমন্ত্রীর এই পরিকল্পিত চীন সফরের প্রস্তুতিমূলক আলোচনা বর্তমানে চলমান রয়েছে। যদিও সফরের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে প্রাথমিক আলোচনা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী বেইজিং পৌঁছানোর প্রথম দিনেই চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সম্ভাব্য সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, চীন বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। প্রধানমন্ত্রী সুবিধাজনক সময়ে অবশ্যই চীন সফর করবেন এবং এই সফর দুই দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও বিস্তৃত করবে। এর আগে গত ৮ মে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য বেইজিং সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করবে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীনের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত ৬ মে বেইজিংয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং অর্থনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চীন সফরের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এর আগে গত মাসে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল চীনের একাধিক প্রদেশ সফর করেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ ও শিল্প স্থানান্তর, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সচলকরণ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পাবে। এছাড়া আকাশপথে যোগাযোগ বাড়াতে গুয়াংজু-চট্টগ্রাম ও সাংহাই-চট্টগ্রাম সরাসরি বিমান ফ্লাইট চালুর বিষয়টিও টেবিলে থাকবে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক সমীকরণও এই সফরে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ঘোষিত চার বৈশ্বিক উদ্যোগ—গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (জিডিআই), গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ (জিএসআই), গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভ (জিসিআই) এবং গ্লোবাল গভার্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ (জিজিআই)-এর মধ্যে প্রথম দুটি উদ্যোগে বাংলাদেশকে যুক্ত করার জন্য বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে।

পাশাপাশি, আঞ্চলিক রাজনীতিতে চীন, পাকিস্তান ও মিয়ানমারকে নিয়ে একটি বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক ফোরাম গঠনের যে প্রস্তাব অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় রয়েছে, তা নিয়েও ঢাকার নীতিনির্ধারকরা সতর্ক পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন। বাংলাদেশ বর্তমানে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) পুনরুজ্জীবিত করার ওপর জোর দিচ্ছে। ফলে নতুন কোনো আঞ্চলিক জোটে যোগদানের ক্ষেত্রে কৌশলগত লাভ-ক্ষতি ও ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করার নীতি গ্রহণ করেছে নতুন সরকার।

সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক এই প্রসঙ্গে জানান, বর্তমান পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এককভাবে দেখার সুযোগ কম। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ যখন কোনো পরাশক্তির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করবে, তখন অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ মাথায় রাখা জরুরি। সার্বিকভাবে, প্রধানমন্ত্রীর এই বেইজিং সফর কেবল দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিই নয়, বরং আগামী দিনে বাংলাদেশের আঞ্চলিক কূটনৈতিক অবস্থানের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026