রাজধানী ডেস্ক
আগামী অর্থবছরে নোয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি উল্লেখ করেন, এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে ভাঙন, প্লাবন ও বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়ে জীবনসংগ্রাম পরিচালনা করছেন। জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আসন্ন বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পূর্বেই জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
আজ রবিবার (১৭ মে) দুপুরে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের কাটাখালি ঘাটে মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, হাতিয়া, উড়িরচর, স্বর্ণদ্বীপ ও ভাসানচরসহ নদীভাঙন কবলিত প্রতিটি স্পর্শকাতর এলাকায় সরকারের বিশেষ নজরদারি রয়েছে। এসব অঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস ও ভৌগোলিক সুরক্ষায় ইতিমধ্যে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে। এর পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের যে দাবি, তা বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। যেসব এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ বা অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট কারিগরি কমিটির স্টাডি রিপোর্ট চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই আগামী অর্থবছরের মধ্যে এই কাজগুলো সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই জেলাটি প্রতিনিয়ত জলবায়ু পরিবর্তন ও নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে মেঘনার তীব্র স্রোতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি, বসতভিটা ও সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। স্থানীয় অর্থনীতি ও কৃষিখাতকে রক্ষায় এই স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান মন্ত্রীকে নদীভাঙনকবলিত বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট ঘুরিয়ে দেখান এবং ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
উক্ত পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, সদস্য সচিব হারুন উর রশিদ আজাদ, সদস্য শহীদুল ইসলাম কিরণ, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান, যুবদল নেতা ও চেয়ারম্যান প্রার্থী বশির আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ছাবের আহমেদ, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজগর উদ্দিন দুখু এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রেফাত জামিলসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।