বাংলাদেশ ডেস্ক
সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড অ্যান্ড গ্রুপের’ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান সিনহার প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা আবু রায়হান।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই জানাজায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং মরহুমের দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা অংশ নেন। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের স্পিকার অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন (বীর বিক্রম), ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানাজায় শরিক হন।
জানাজা শেষে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর পর্যায়ক্রমে জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রীসহ উপস্থিত অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে দেশের রাজনৈতিক ও শিল্প খাতে তাঁর অবদানকে স্মরণ করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।
এর আগে, গত শুক্রবার রাতে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মিজানুর রহমান সিনহা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও ব্যবসায়ী সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
মিজানুর রহমান সিনহা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ করে মুন্সিগঞ্জ অঞ্চলের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি মুন্সিগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গিবাড়ী) আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়নে ১৯৯৬ সালের সপ্তম এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ৫৮ হাজার ৪৫৫ ভোট এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে ৮৩ হাজার ৬২৩ vote পেয়ে তিনি বিপুল ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পর পর দুটি নির্বাচনে তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী নূরুল ইসলাম খান বাদল ও সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলিকে পরাজিত করে সংসদে এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন।
২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে দেশের স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ওষুধ শিল্পে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পাশাপাশি তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা ও শিল্পপতি হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। একমি ল্যাবরেটরিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব সামলেছেন। এ ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে সর্বশেষ ঘোষিত মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটিতে তাঁকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দলীয় ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর ব্যাপক অবদান রয়েছে।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ ভবনে প্রথম জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকা মুন্সিগঞ্জের লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ীতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে আরও কয়েক দফা জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। তাঁর এই প্রয়াণে মুন্সিগঞ্জ জেলাসহ দেশজুড়ে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের আবহ বিরাজ করছে।