বিনোদন ডেস্ক
ভারতের তেলেগু চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পরিচিত মুখ অভিনেতা কে ভারত কান্ত এবং সিনেমাটোগ্রাফার জি সাই ত্রিলোক এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। গত রবিবার ভোরে হায়দ্রাবাদের আদিবাতলা এলাকার আউটার রিং রোডে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত্যুকালে অভিনেতা ভারত কান্তের বয়স হয়েছিল ৩১ বছর।
আদিবাতলা থানা পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রবিবার ভোরবেলায় ভারত কান্ত নিজেই গাড়িটি চালিয়ে হায়দ্রাবাদের দিকে যাচ্ছিলেন। আউটার রিং রোড অতিক্রম করার সময় আদিবাতলা এলাকায় গাড়িটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং সামনে থাকা একটি পণ্যবাহী লরিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে, গাড়ির সামনের অংশটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই অভিনেতা ভারত কান্ত এবং তার সহযোগী জি সাই ত্রিলোকের মৃত্যু হয়।
নিহত ভারত কান্ত এবং জি সাই ত্রিলোক উভয়েই মূলত অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর জেলার বাসিন্দা ছিলেন। তারা পেশাগত কারণে হায়দ্রাবাদে অবস্থান করতেন এবং দুর্ঘটনার সময় সম্ভবত কোনো কাজ শেষে শহরে ফিরছিলেন। স্থানীয় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। লরিটির অবস্থান এবং দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, ভোরের দিকে দৃষ্টিসীমা কম থাকা অথবা অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারানোয় এই প্রাণহানি ঘটে থাকতে পারে।
তেলেগু বিনোদন জগতে ভারত কান্ত বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিনয় ও নৃত্যের পাশাপাশি তিনি ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরিতে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তাকে ‘টেন্যান্ট’ এবং ‘গ্রামাম’-এর মতো আলোচিত তেলেগু চলচ্চিত্র এবং বেশ কিছু স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার প্রভাব ছিল ব্যাপক; বিশেষ করে ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ হাজার এবং ইউটিউবে ৩০ হাজারের বেশি গ্রাহক তার নিয়মিত কাজগুলো অনুসরণ করতেন।
অন্যদিকে, জি সাই ত্রিলোক একজন দক্ষ সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে তেলেগু ডিজিটাল মাধ্যম ও বিভিন্ন চলচ্চিত্র প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। ইউটিউবে তার সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে তিনিও দর্শকদের কাছে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তরুণ এই দুই শিল্পীর আকস্মিক মৃত্যুতে তেলেগু চলচ্চিত্র অঙ্গন এবং সোশ্যাল মিডিয়া কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাদের অকাল প্রয়াণ ডিজিটাল কন্টেন্ট ও চলচ্চিত্র শিল্পের উদীয়মান প্রতিভাদের জন্য একটি বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।