নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের পদত্যাগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পদত্যাগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। আজ সোমবার (১১ মে) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ এই পদটি থেকে সরে দাঁড়ানোর মাধ্যমে প্রক্টরিয়াল বডিতে বড় ধরনের রদবদলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করেছেন। এর আগে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন প্রক্টরিয়াল টিমে তিনি সহকারী প্রক্টর হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন। দীর্ঘ কয়েক মাস দায়িত্ব পালনের পর ব্যক্তিগত ও নৈতিক অবস্থান থেকে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে শেহরীন আমিন তার পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি এর আগে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করলেও প্রশাসনিক কোনো পদের প্রতি তার আগ্রহ ছিল না। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের শীর্ষতম এই বিদ্যাপীঠের প্রশাসনিক কাঠামোতে অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তিনি সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। বিশেষ করে তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি এই চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব পালনে যুক্ত হন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের গত কয়েক মাসের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অত্যন্ত সংকটময় সময়ে এই দলটিকে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। গত জুলাই ও আগস্ট মাসের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি এবং ক্যাম্পাস জুড়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রক্টরিয়াল টিমকে নিবিড়ভাবে কাজ করতে হয়েছে। বিদায়ী সহকারী প্রক্টর তার দায়িত্বকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেছেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের পদত্যাগের পর সহকারী প্রক্টরের এই প্রস্থান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্য একটি বিশেষ বার্তা বহন করছে। সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম একটি সমন্বিত ইউনিট হিসেবে কাজ করে। প্রধান প্রক্টরের বিদায়ের পর টিমের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তরের বা সরে দাঁড়ানোর একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। তবে ঢাবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী প্রক্টরিয়াল বডি গঠনের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্পর্শকাতর স্থানে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রক্টর অফিসের ভূমিকা অপরিসীম। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পটপরিবর্তনের প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর ওপরও পড়ছে। নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলার মেলবন্ধন ঘটানোই এখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমে বারবার এই পরিবর্তন প্রশাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নতুন নিয়োগ প্রাপ্তরা দ্রুত পরিস্থিতি সামলে নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পদত্যাগকারী শিক্ষক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া তার উত্তরসূরিদের জন্য শুভকামনা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন যে, নতুন প্রক্টরিয়াল টিম অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এই গুরুদায়িত্ব পালন করবেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিগগিরই শূন্য পদগুলো পূরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।