আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে রাজ্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে বিহার ও উত্তর প্রদেশ থেকে তিন পেশাদার শার্প শুটারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) সকালে গ্রেপ্তারকৃতদের বারাসাত আদালতে তোলা হলে তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার পশ্চিমবঙ্গ সিআইডির একটি বিশেষ দল প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে অভিযান চালায়। অভিযানে বিহারের বক্সার থেকে মায়ঙ্ক রাজ মিশ্র ও ভিকি মৌর্য এবং উত্তর প্রদেশের বালিয়া থেকে রাজ সিংকে আটক করা হয়। সংশ্লিষ্ট রাজ্যের পুলিশের সহযোগিতায় তাদের আটক করার পর রাতেই কলকাতায় সিআইডির সদর দপ্তর ভবানী ভবনে নিয়ে আসা হয়। সেখানে রাতভর ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের বয়ানে অসংগতি ধরা পড়লে সোমবার সকালে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখায়।
ডিজিটাল লেনদেনের সূত্র ধরে এই অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথের ওপর হামলার পর অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় বালি টোল প্লাজায় ইউপিআই (UPI) ব্যবস্থার মাধ্যমে টোল পরিশোধ করেছিল। এই ডিজিটাল পেমেন্টের সূত্র ধরে তাদের মোবাইল নম্বর ও অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, অভিযুক্তরা উত্তর ভারতের একটি আন্তঃরাজ্য অপরাধচক্রের সদস্য।
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়ের পর এবং শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের ঠিক আগমুহূর্তে গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথ আক্রান্ত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, দুষ্কৃতীরা খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে অন্তত চার রাউন্ড গুলি চালায়। গুলির আঘাতে তার বুক ও হাত মারাত্মকভাবে জখম হয়। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সহকারীর এই মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (বিএনএস)-এর ১০৩(১), ১১১(২)(ক), ১২৬(২), ৩(৫) এবং ৬১(১) ধারাসহ অস্ত্র আইনের ২৫/২৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, এটি একটি সুপরিকল্পিত ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’ বা ভাড়ায় করা হত্যাকাণ্ড। পেশাদার খুনিদের ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে যাতে মূল পরিকল্পনাকারীরা আড়ালে থাকতে পারে।
রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা এখন খতিয়ে দেখছেন এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল নির্দেশদাতা কে বা কারা। আন্তঃরাজ্য এই অপরাধী চক্রের সাথে পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় কোনো গোষ্ঠীর যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সাথে এই ঘটনার পেছনে কোনো গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নাকি ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ কাজ করেছে, সেই রহস্য উন্মোচনে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। নবনির্বাচিত সরকারের শপথের প্রাক্কালে এ ধরনের হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ড রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন ছুড়ে দিয়েছে।