সারাদেশ ডেস্ক
কক্সবাজারের উখিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় ছয় বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি খাইরুল বশর ওরফে পুতিয়াকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গত রবিবার রাতে উখিয়া উপজেলার পালংখালী বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব-১৫ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পালংখালী বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেফতারকৃত খাইরুল বশর উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা নাজির হোসেনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।
সূত্র জানায়, খাইরুল বশরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে ছয় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং আর্থিক জরিমানা প্রদানের আদেশ দেন। সাজা ঘোষণার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর র্যাবের একটি চৌকস দল রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। উখিয়া থানার মাধ্যমে তাকে আদালতে সোপর্দ করে জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদকবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ ধরনের সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা এবং মাদকপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে যাতে করে কোনো অপরাধী সাজা এড়াতে দীর্ঘকাল আত্মগোপনে থাকতে না পারে। খাইরুল বশরের গ্রেফতার মাদক নির্মূল অভিযানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশে মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে মাদক পাচার এবং কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় কঠোর সাজার বিধান থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে আসামিরা জামিনে বেরিয়ে বা মামলার রায় হওয়ার আগে আত্মগোপনে চলে যায়। এ ধরনের পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনা অপরাধ দমনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। খাইরুল বশরের মতো চিহ্নিত সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেফতারের ফলে বিচার ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত হয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ প্রবণতা হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।