1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা সরকারের বৃষ্টির দাপটে মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা স্থগিত বাংলাদেশ ও কোরিয়ার টেকসই গ্রামীণ উন্নয়নে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থালাপতি বিজয়ের প্রথম দিন : ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও নারী নিরাপত্তার ঘোষণা মানবাধিকার রক্ষা করে পুলিশকে জনবান্ধব হওয়ার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম নবান্ন সফর: নতুন সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু নারী ফুটবলের উন্নয়নে বাফুফের নতুন সঙ্গী গ্লো অ্যান্ড লাভলী বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বারোপ শিক্ষামন্ত্রীর মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে পুলিশকে জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিনের পদত্যাগ

টেক্সাসে মালবাহী ট্রেনের বগি থেকে ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার: সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের মেক্সিকো সীমান্তবর্তী লারেডো শহরে একটি মালবাহী ট্রেনের বগি থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সময় গত রবিবার বিকেলে ইউনিয়ন প্যাসিফিক রেইলরোডের একটি ইয়ার্ডে মাল খালাসের সময় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই লারেডো পুলিশ এবং ফেডারেল তদন্তকারী সংস্থাগুলো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই সীমান্ত এলাকায় বড় ধরনের কোনো মানবপাচার চেষ্টার ফলে এই মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

লারেডো পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ইউনিয়ন প্যাসিফিক রেইলরোড ইয়ার্ডে নিয়োজিত এক কর্মী একটি বক্সকারের (পণ্যবাহী ঢাকা বগি) ভেতরে কয়েকজন মানুষকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসাসেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক অবস্থায় নিহতদের নাম-পরিচয় কিংবা নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা হোসে এসপিনোজা জানিয়েছেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কনস্যুলেট অফিসের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়া চলছে।

ইউনিয়ন প্যাসিফিক রেইলরোড মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। এটি মেক্সিকোর আটটি প্রধান সীমান্ত পয়েন্টের সবকটির সঙ্গেই রেল সংযোগ রক্ষা করে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা খতিয়ে দেখছেন যে, এই ট্রেনটি মেক্সিকোর ঠিক কোন অঞ্চল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং পথে কোথায় কোথায় যাত্রাবিরতি দিয়েছিল। সীমান্ত নিরাপত্তার কড়াকড়ি এড়াতে অনেক সময় অভিবাসনপ্রত্যাশীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে পণ্যবাহী ট্রেনের বগিতে আশ্রয় নেন, যা প্রায়শই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় রূপ নেয়।

ঘটনার সময় লারেডো এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের তথ্যানুসারে, ওইদিন বিকেলে লারেডোর তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৯৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। বদ্ধ মালবাহী বগির ভেতরে বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের তুলনায় বহুগুণ বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তীব্র গরম এবং ডিহাইড্রেশনের কারণে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ওই ব্যক্তিদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে কোনো ধরনের ধস্তাধস্তি বা আঘাতের চিহ্ন আছে কি না, তা বিস্তারিত ফরেনসিক রিপোর্টের পর জানা যাবে।

লারেডো শহরটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রবেশপথ হিসেবে স্বীকৃত। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পোর্ট লারেডো দিয়ে প্রতিবছর শত শত বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য সম্পন্ন হয়। ২০২৪ সালের এক পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, টেক্সাসের মোট স্থলবন্দর বাণিজ্যের প্রায় ৬২ শতাংশ এই রুটে পরিচালিত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্যমান ছিল প্রায় ৩৪০ বিলিয়ন ডলার। বিশাল এই বাণিজ্যিক কার্যক্রমের আড়ালে মানবপাচারকারী চক্রগুলো সক্রিয় থাকে বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনাটি ২০২২ সালে টেক্সাসের স্যান আন্তোনিওতে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ স্মৃতিকে নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে, যেখানে একটি পরিত্যক্ত লরির ভেতর থেকে ৫৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। লারেডোর এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি সীমান্ত দিয়ে মানবপাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সীমাবদ্ধতা এবং অবৈধভাবে প্রবেশের ঝুঁকির দিকটি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

বর্তমানে লারেডো পুলিশ বিভাগ, ইউনিয়ন প্যাসিফিক পুলিশ এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশন (HSI) যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। মৃত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং তারা কোনো সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্রের শিকার কি না, তা বের করাই এখন তদন্তকারীদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং সময় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা না হলেও পুরো রেল ইয়ার্ডের সিসিটিভি ফুটেজ এবং ট্রেনের লগবুক পরীক্ষা করা হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026