ক্রীড়া প্রতিবেদক
আসন্ন মে ও জুন মাসে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের জন্য পৃথক ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। বর্তমানে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) ব্যস্ত থাকা অলরাউন্ডার মিচেল মার্শকে এই সফরগুলোর জন্য অধিনায়ক নির্বাচিত করা হয়েছে। অভিজ্ঞ ও নিয়মিত ক্রিকেটারদের বিশ্রাম দিয়ে তরুণ ও উদীয়মান খেলোয়াড়দের প্রাধান্য দিয়ে সাজানো হয়েছে এই নতুন ধাঁচের স্কোয়াড।
ঘোষিত এই দলে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক এবং জশ হ্যাজেলউডের মতো অভিজ্ঞ ও নিয়মিত পেস ত্রয়ীকে রাখা হয়নি। দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা ও খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সিনিয়রদের এই বিশ্রামের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের অনুপস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ সামলাবেন বিলি স্ট্যানলেক ও রিলি মেরেডিথ, যারা ইনজুরি ও অফ-ফর্ম কাটিয়ে ওয়ানডে দলে ফিরেছেন। বিশেষ করে মেরেডিথের গতি ও স্ট্যানলেকের উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে উপমহাদেশের উইকেটে বাড়তি সুবিধা নিতে চায় অজি নির্বাচকরা।
অস্ট্রেলিয়া এবার তাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করা বেশ কয়েকজন নতুন মুখকে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে। অলি পিক, লিয়াম স্কট ও জোয়েল ডেভিস প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। তবে ভিন্ন ভিন্ন ফরম্যাট ও সিরিজের কথা বিবেচনায় রেখে তাদের নির্বাচন করা হয়েছে। অলি পিককে রাখা হয়েছে কেবল পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে। অন্যদিকে, লিয়াম স্কট জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে স্কোয়াডে এবং জোয়েল ডেভিসকে রাখা হয়েছে শুধুমাত্র টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডের জন্য।
বাংলাদেশ সফরে ওয়ানডে সিরিজে মিচেল মার্শের নেতৃত্বে থাকছেন জেভিয়ার বার্টলেট, অ্যালেক্স কেরি ও ক্যামেরন গ্রিনের মতো সামর্থ্যবান ক্রিকেটাররা। ট্রাভিস হেড ও মার্নাস লাবুশেনের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারদের পাশাপাশি স্পিন আক্রমণে অ্যাডাম জাম্পার সঙ্গে থাকছেন ম্যাথু কুহনেমান ও তরুণ তানভীর সংঘ। ব্যাটিং গভীরতা বাড়াতে রাখা হয়েছে ম্যাথু রেনশ ও জশ ইংলিসকে। লিয়াম স্কট এই সিরিজের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার পদচারণা শুরু করার অপেক্ষায় আছেন।
অন্যদিকে, টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডেও তারুণ্যের জয়গান লক্ষ্য করা গেছে। টিম ডেভিডের মতো বিধ্বংসী ব্যাটারের পাশাপাশি অ্যারন হার্ডি, স্পেন্সার জনসন এবং জশ ফিলিপকে রাখা হয়েছে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের এই দলে। উইকেট রক্ষক হিসেবে জশ ইংলিসের পাশাপাশি জশ ফিলিপের অন্তর্ভুক্তি দলের ভারসাম্য রক্ষা করবে। স্পিন বিভাগ সামলাবেন অভিজ্ঞ অ্যাডাম জাম্পা ও ম্যাথু কুহনেমান। নাথান এলিস ও জেভিয়ার বার্টলেটের ওপর থাকবে ডেথ ওভারে রান নিয়ন্ত্রণের গুরুভার।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ভবিষ্যৎ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই নতুন প্রতিভা অন্বেষণের এই কৌশল নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বিশেষ করে বাংলাদেশের মন্থর ও স্পিন সহায়ক উইকেটে তরুণ ক্রিকেটারদের পরীক্ষা করে নেওয়া অজি ক্রিকেট বোর্ডের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনারই অংশ। এই সফরের মধ্য দিয়ে যেমন তরুণদের দক্ষতা যাচাই হবে, তেমনি সিনিয়রদের অনুপস্থিতিতে নতুন নেতৃত্বের সক্ষমতাও প্রমাণিত হবে।
আগামী মে মাসে পাকিস্তান সফরের পর সরাসরি বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে অস্ট্রেলিয়া দলের। বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ায় সাদা বলের এই ক্রিকেট লড়াই উভয় দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে দল:
মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, অ্যালেক্স কেরি, কুপার কনলি, বেন ডোয়ার্শুইস, নাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাথু কুহনেমান, মার্নাস লাবুশেন, ম্যাথু রেনশ, তানভীর সংঘ, লিয়াম স্কট ও অ্যাডাম জাম্পা।
বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি দল:
মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, কুপার কনলি, টিম ডেভিড, জোয়েল ডেভিস, নাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যারন হার্ডি, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, স্পেন্সার জনসন, ম্যাথু কুহনেমান, রাইলি মেরিডিথ, জশ ফিলিপ, ম্যাথু রেনশ ও অ্যাডাম জাম্পা।