আবহাওয়া ডেস্ক
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকায় ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বর্ষা-পূর্ববর্তী এই মৌসুমে বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়ে সোমবারও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে, সোমবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার পূর্বাভাসে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে। এ সময়ে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বায়ুপ্রবাহের দিক বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। তবে বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দিনের সামগ্রিক তাপমাত্রায় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানানো হয়েছে।
রাজধানীর তাপমাত্রার তথ্যে দেখা যায়, সোমবার সকাল ৬টায় ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গতকাল রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সকাল ৬টায় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৮ শতাংশ, যা ভোরের দিকে পরিবেশে কিছুটা শীতল আমেজ তৈরি করলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বাড়তে পারে। আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে এবং আগামীকাল মঙ্গলবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে।
এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে অধিদপ্তর। সোমবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেওয়া এই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ছোট লঞ্চ ও নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, মে মাসে এ ধরনের মৌসুমি বায়ুর প্রভাব ও পশ্চিমা লঘুচাপের সক্রিয়তা স্বাভাবিক ঘটনা। তবে হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়ার কারণে নদীবহুল অঞ্চলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে এই সময়ে বাতাসের গতিবেগ ও বজ্রপাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়, যা নৌ-চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সার্বিকভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা আরও কয়েক দিন বজায় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের ওপর এই বৃষ্টির প্রভাব ইতিবাচক হলেও উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক ঝোড়ো আবহাওয়ার কারণে বিশেষ সতর্কতা বজায় রাখা প্রয়োজন।