1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৫:০২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা সরকারের বৃষ্টির দাপটে মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা স্থগিত বাংলাদেশ ও কোরিয়ার টেকসই গ্রামীণ উন্নয়নে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থালাপতি বিজয়ের প্রথম দিন : ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও নারী নিরাপত্তার ঘোষণা মানবাধিকার রক্ষা করে পুলিশকে জনবান্ধব হওয়ার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম নবান্ন সফর: নতুন সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু নারী ফুটবলের উন্নয়নে বাফুফের নতুন সঙ্গী গ্লো অ্যান্ড লাভলী বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বারোপ শিক্ষামন্ত্রীর মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে পুলিশকে জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিনের পদত্যাগ

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে ইরান ও ফ্রান্সের পাল্টাপাল্টি অবস্থান

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ১৮ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল সুরক্ষার অজুহাতে ফ্রান্স বা যুক্তরাজ্যের যেকোনো ধরনের সামরিক মোতায়েন এই অঞ্চলকে সামরিকীকরণের দিকে ঠেলে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপের যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

কাজেম গরিবাবাদি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে কখনো সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে যারা নিজেরাই আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার অংশ, তাদের সামরিক উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, হরমুজ প্রণালি একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর আঞ্চলিক জলপথ এবং এটি অঞ্চলের বাইরের শক্তিগুলোর কোনো যৌথ সম্পত্তি নয়। ফলে বিদেশি শক্তিগুলোর এই জলপথে হস্তক্ষেপ করার কোনো আইনগত বা কৌশলগত ভিত্তি নেই বলে তেহরান মনে করে।

ইরানের এই হুঁশিয়ারি মূলত সাম্প্রতিক কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় এসেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে সামরিক মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। তবে ইরানের কঠোর বার্তার পর ফ্রান্সের পক্ষ থেকে বিষয়টির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

কেনিয়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ স্পষ্ট করেছেন যে, ফ্রান্স হরমুজ প্রণালিতে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করেনি। তিনি বলেন, প্যারিস একক কোনো সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি টেকসই সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গঠনের পক্ষপাতী। মাখোঁর এই বক্তব্যকে উত্তেজনা প্রশমনের একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই আশ্বাসের বিপরীতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সাম্প্রতিক কিছু তৎপরতা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই ফরাসি সশস্ত্র বাহিনী জানায়, তাদের একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ লোহিত সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সামরিক কর্তৃপক্ষের মতে, এটি মূলত ভবিষ্যতের সম্ভাব্য কিছু মিশনের প্রস্তুতি হিসেবে নেওয়া একটি রুটিন পদক্ষেপ। কিন্তু এই সামরিক অগ্রযাত্রা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সম্ভাব্য যৌথ মোতায়েন সংক্রান্ত প্রতিবেদন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট খনিজ তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ইরান এবং পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে বিরোধ বিদ্যমান। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। ইরানের বর্তমান অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা এই অঞ্চলে পশ্চিমা আধিপত্য বিস্তারের যেকোনো প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করবে। অন্যদিকে, ফ্রান্সের দ্বিমুখী অবস্থান—একদিকে লোহিত সাগরে রণতরি পাঠানো এবং অন্যদিকে ইরানের সাথে সমন্বয়ের কথা বলা—প্যারিসের আঞ্চলিক কূটনীতির একটি জটিল দিক উন্মোচন করছে।

সার্বিকভাবে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরানের কড়া হুঁশিয়ারি এবং প্যারিসের কূটনৈতিক ব্যাখ্যার পর এই জলপথের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের গভীর পর্যবেক্ষণের বিষয়।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026