আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উত্থাপিত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের দেওয়া জবাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে ওয়াশিংটনের মূল শর্তগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক ও কৌশলগত উত্তেজনা নিরসনের প্রচেষ্টা এক নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
গত রোববার ওয়াশিংটনে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি জানান, তেহরানের পক্ষ থেকে যে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটেনি। বিশেষ করে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী পারমাণবিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে ইরান যে অবস্থান নিয়েছে, তা ওয়াশিংটনের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার স্বার্থে প্রণীত প্রস্তাবগুলো পাশ কাটিয়ে নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর লক্ষ্যে একটি বিস্তৃত যুদ্ধবিরতি এবং পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব পেশ করেছিল। এর জবাবে ইরান বেশ কিছু পাল্টা প্রস্তাব পাঠায়। তবে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন, তেহরানের দেওয়া শর্তগুলো মূল আলোচনার ভিত্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের মতে, ওয়াশিংটনের দেওয়া নিরাপত্তা গ্যারান্টির বিনিময়ে ইরানকে যেসব ছাড় দিতে বলা হয়েছিল, তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে, ইরান গত পাঁচ দশক ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার নামে মূলত সময়ক্ষেপণের কৌশল অবলম্বন করে আসছে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান আচরণে স্পষ্ট যে তারা সমাধানের চেয়ে কালক্ষেপণ করতেই বেশি আগ্রহী। এই বিলম্বের কারণে অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও হুমকির মুখে পড়ছে এবং কূটনৈতিক পথ সংকুচিত হয়ে আসছে বলে তিনি সতর্ক করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কড়া বার্তার পর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।
এদিকে, যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে সৃষ্ট এই অচলাবস্থার মাঝেই হরমুজ প্রণালি ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি এবং নৌ-অবরোধের আশঙ্কা আরও প্রবল হয়েছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে ইরান ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সরাসরি প্রত্যাখ্যান মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে এই অনমনীয় অবস্থান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ওয়াশিংটন যদি ইরানের এই জবাবের পর আরও কঠোর কোনো অবরোধ বা সামরিক পদক্ষেপের দিকে হাঁটে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এখন ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে গভীর নজর রাখছে, কারণ এই সংকটের সমাধান কেবল দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নয়, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করছে।