বাংলাদেশ ডেস্ক
রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য নিরাপদ, মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। রোববার (১০ মে) কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের লার্নিং সেন্টার পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করেন এবং মানবিক সংকটের মধ্যেও শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী লার্নিং সেন্টারের শিক্ষার্থীদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন, পড়াশোনার অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা শোনেন। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিটি শিশুরই স্বপ্ন দেখার এবং বিকশিত হওয়ার মৌলিক অধিকার রয়েছে। সংঘাত বা বাস্তুচ্যুতির মতো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শিশুদের শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। শিক্ষা কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি প্রজন্মকে সহিংসতা, চরমপন্থা ও অন্ধকারের পথ থেকে সরিয়ে রাখার অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার।
বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মিয়ানমার কারিকুলাম অনুসরণ করে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। লার্নিং সেন্টারগুলোতে মিয়ানমার ভাষা, ইংরেজি, গণিত, ভূগোল, ইতিহাস এবং বিজ্ঞান—এই ছয়টি বিষয়ে ১২তম গ্রেড পর্যন্ত শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। মূলত রোহিঙ্গা শিশুদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের পর যেন তারা স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে সহজে খাপ খাইয়ে নিতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই পাঠ্যক্রম নির্ধারিত হয়েছে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ইউনিসেফ ও ব্র্যাক পরিচালিত তিনটি পৃথক লার্নিং সেন্টার ঘুরে দেখেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। শিক্ষকরা জানান, ক্রমবর্ধমান শিক্ষার্থীর তুলনায় অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, উন্নতমানের শিক্ষাসামগ্রীর অপর্যাপ্ততা এবং শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী এসব সমস্যা ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শিশুর ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের জোরালো সমর্থন ও সহায়তা ছাড়া এই বিশাল জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। কোনো শিশুই যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটি নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সেখানে তিনি তাদের জীবনযাত্রার মান এবং শিশুদের সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের চিফ অফ এডুকেশন দীপা সরকার, এডুকেশন ম্যানেজার লুইজ লিক, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ব্র্যাকের প্রতিনিধিরা। অংশগ্রহণকারীরা রোহিঙ্গা শিশুদের মানসিক বিকাশ ও সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন।