নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ৯ মে ২০২৬: বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে সফররত পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভীর সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে মিলিত হন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উভয় পক্ষই দুই দেশের সম্পর্কের সাম্প্রতিক ইতিবাচক গতিশীলতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে পারস্পরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সহযোগিতামূলক ভবিষ্যৎ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন দুই নেতা। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বিপুল সম্ভাবনার বিষয়টি প্রাধান্য পায়। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ব্যবধান কমিয়ে আনতে এবং নতুন নতুন পণ্য আমদানির ক্ষেত্র তৈরিতে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। শামা ওবায়েদ ইসলাম বৈঠকে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।
বাণিজ্য ছাড়াও ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো বিস্তৃত করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মেলবন্ধন দৃঢ় করতে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল উদ্ভাবন খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল বিপ্লবের এই যুগে উভয় দেশের কারিগরি অভিজ্ঞতা বিনিময় দক্ষিণ এশিয়ার সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান দিক ছিল আঞ্চলিক সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম সার্ককে (SAARC) পুনরুজ্জীবিত করার প্রস্তাব। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সার্ককে একটি কার্যকর সংস্থায় রূপান্তরের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক সংহতি বৃদ্ধি পেলে এই অঞ্চলের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন সহজতর হবে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এই প্রস্তাবে একমত পোষণ করে দক্ষিণ এশিয়ার সম্মিলিত স্বার্থে আঞ্চলিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ (People-to-people contact) বৃদ্ধির বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব কমিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হয়। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠক দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় সহায়ক হবে।
বৈঠকে উভয় দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুই নেতা ভবিষ্যতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরামে একে অপরকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বৈঠক সমাপ্ত করেন। এই সফর ও বৈঠকের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন এক অধ্যায় শুরু হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।