সারাদেশ ডেস্ক
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিতে হেগেরা চাকমা (৫৫) ওরফে লেত্তবাপ নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার সকাল ৭টার দিকে সাজেক ভ্যালির দুর্গম শুকনো ছড়া ১০ নম্বর পাড়া এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে হেগেরা চাকমা সাজেক ইউনিয়নের ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এসময় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত আকস্মিক চারদিক থেকে তাকে লক্ষ্য করে ঘেরাও করে ফেলে। আত্মরক্ষার্থে তিনি পালানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়। হামলার পর সশস্ত্র দলটি দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে পাহাড়ের গভীর অরণ্যে আত্মগোপন করে। এই ঘটনার পর থেকে সাজেক ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল দুর্গম পাহাড়ের পথ পাড়ি দিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোফাজ্জল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করার পর নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় আনুষ্ঠানিক কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে এলাকায় ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। গত ৭ মে খাগড়াছড়ির পানছড়ি বাজারে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) সংগঠনের সদস্য ইমন চাকমাকে গুলি করে হত্যার ঘটনার সঙ্গে আজকের এই হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ও প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবেই এই ঘটনা ঘটেছে।
পার্বত্য রাঙামাটির এই এলাকাগুলো অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা মাঝেমধ্যেই চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সাজেক ইউনিয়ন খাগড়াছড়ি সীমান্তের কাছে হওয়ায় এখানে প্রায়ই বিভিন্ন পক্ষের সশস্ত্র সংঘাতের খবর পাওয়া যায়। স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে এবং পর্যটন সমৃদ্ধ সাজেক ভ্যালির শান্ত পরিবেশকে বিঘ্নিত করছে। প্রশাসন এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাজেক ও বাঘাইছড়ি সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা তল্লাশি ও টহল জোরদার করেছে যাতে পুনরায় কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সৃষ্টি না হয়।