নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামীকাল রবিবার থেকে দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে চার দিনব্যাপী ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ অবদান এবং পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ১০৭ জন কর্মকর্তা ও সদস্যকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে এই পদক তুলে দেবেন।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মনোনীত ১০৭ জন সদস্যের মধ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মকর্তাদের ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক’ (বিপিএম) এবং বাকিদের ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক’ (পিপিএম) প্রদান করা হবে। এই পদক প্রদানের মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় তাদের অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়।
ইতিমধ্যে পদকপ্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ডিআইজি (কনফিডেনশিয়াল) মো. কামরুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মনোনীতদের নাম, পদবি ও বর্তমান কর্মস্থলের বিবরণ প্রকাশ করা হয়। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, পদকের জন্য মনোনীত ১০৭ জন সদস্যকে আনুষ্ঠানিক মহড়া ও প্রস্তুতির লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই রাজারবাগ পুলিশ লাইনস প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত হতে হবে।
জাতীয় এই আয়োজনকে ঘিরে পুলিশের শীর্ষ মহলে ব্যাপক প্রস্তুতি লক্ষ্য করা গেছে। এবারের পুলিশ সপ্তাহে পদকপ্রাপ্তদের সংখ্যা বিগত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ সালে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪০০ জন পুলিশ সদস্যকে বিপিএম ও পিপিএম পদক প্রদান করা হয়েছিল। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে ১১৭ জন এবং ২০২২ সালে ২৩০ জন এই সম্মাননা লাভ করেছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পদক প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করার ফলে এ বছর তালিকার আকার সংক্ষিপ্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাঠামো এবং কার্যক্রমে ব্যাপক সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই প্রেক্ষাপটে গত বছর পুলিশ সপ্তাহের কার্যক্রম নির্ধারিত সাত দিনের পরিবর্তে তিন দিনে সংকুচিত করা হয়েছিল। তবে এ বছর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় চার দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহ উদযাপিত হতে যাচ্ছে।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অধিবেশনে বাহিনীর আধুনিকায়ন, জনবান্ধব পুলিশিং এবং অপরাধ দমনে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন করবেন এবং বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন। আগামী চার দিন পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাথে বিভিন্ন মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন, যেখানে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলা নিয়ে বিস্তারিত রূপরেখা প্রণয়ন করা হবে। পদকপ্রাপ্তদের এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানটি রাজারবাগ থেকে সরাসরি সম্প্রচারের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।