স্বাস্থ্য ডেস্ক
সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে এবং সংশ্লিষ্ট উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৪৩৫ জন শিশুর শরীরে হামের জীবাণু শনাক্ত অথবা প্রাথমিক উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়েছে। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৃত ৯ জন শিশুর প্রত্যেকেই দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শিশুদের মধ্যে জ্বর এবং শরীরে লালচে দানাদার ফুসকুড়ি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই প্রয়োজনীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতাভুক্ত ছিল না বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, দেশের নির্দিষ্ট কিছু পকেটে এবং দুর্গম এলাকায় টিকাদানের হার কম হওয়ায় সেখানে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা প্রধানত বায়ুর মাধ্যমে ছড়ায়। শিশুদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ সময়মতো চিকিৎসা না পেলে নিউমোনিয়া, মস্তিস্কের প্রদাহ বা এনসেফালাইটিস এবং অন্ধত্বের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে করোনাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে নিয়মিত ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতাকে দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে দেশের বিশেষায়িত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল এবং জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপসর্গ থাকা শিশুদের তালিকা তৈরি করতে এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি, সেখানে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ‘এমআর’ (হাম ও রুবেলা) টিকা দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
হামের এই বিস্তার রোধে অভিভাবকদের সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যদি কোনো শিশুর তীব্র জ্বর, কাশি, সর্দি ও শরীরজুড়ে ফুসকুড়ি দেখা দেয়, তবে বিলম্ব না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুকে অন্তত ১০ থেকে ১৪ দিন আইসোলেশনে রাখা এবং প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহ যদি টিকাদান কর্মসূচি এবং সচেতনতা কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, তবে সংক্রমণের হার পর্যায়ক্রমে হ্রাস পেতে পারে।