বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসনের প্রশাসক সাফিজ উদ্দিন আহমেদ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে ওয়াকফ সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, ডিজিটালাইজেশন এবং ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক কাজে এসব সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাক্ষাতের শুরুতে ওয়াকফ প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর কাছে বর্তমান প্রশাসনের কার্যক্রম এবং ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী ওয়াকফ সম্পত্তির পবিত্রতা রক্ষা এবং এর আয় থেকে জনহিতকর কাজে গতি আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন এবং ধর্ম সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ।
বৈঠক সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা বিপুল পরিমাণ ওয়াকফ সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ওয়াকফ সম্পত্তির প্রতিটি অংশ যেন দাতার উদ্দেশ্য অনুযায়ী সঠিক ধর্মীয় ও সামাজিক খাতে ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই যেন এসব ধর্মীয় সম্পদ ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়।
সাফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ওয়াকফ প্রশাসনের সেবাকে জনসাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ইতিমধ্যে অনলাইনে নিবন্ধনের ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে প্রায় লক্ষাধিক তালিকাভুক্ত ওয়াকফ এস্টেট রয়েছে, যা থেকে সংগৃহীত অর্থ মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা পরিচালনায় ব্যয় করা হয়। তিনি এই প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করেন।
ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ এ সময় বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিক। বিশেষ করে ওয়াকফ প্রশাসনের অধীনে থাকা এতিমখানাগুলোর আধুনিকায়ন ও সেখানে থাকা শিশুদের কারিগরি শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এসব প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানান এবং দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ওয়াকফ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সঠিক তদারকির অভাবে অনেক সময় দামী জমি বা সম্পত্তি অব্যবহৃত পড়ে থাকে কিংবা বেদখল হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি দিকনির্দেশনা ওয়াকফ প্রশাসনের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনবে এবং ধর্মীয় সম্পদ রক্ষায় মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের আরও তৎপর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকের শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়াকফ প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, স্বচ্ছতার সঙ্গে ওয়াকফ সম্পত্তি পরিচালনা করা নৈতিক দায়িত্ব এবং এটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও পরোক্ষ ভূমিকা পালন করে। এদিনের এই সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নতুন করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।