নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী মে মাসে চাঁদপুর ও ফেনী জেলা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরকালীন সময়ে তিনি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প ‘দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি’র উদ্বোধন করবেন। আগামী ১৬ মে চাঁদপুর এবং ২৫ মে ফেনী জেলায় প্রধানমন্ত্রীর এই সরকারি সফরসূচি নির্ধারিত হয়েছে।
বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পানি সম্পদ ব্যবস্থা বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি প্রধানমন্ত্রীর এই জেলা সফরের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আসন্ন বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই জনগুরুত্বপূর্ণ এই খননকাজের সূচনা করতে প্রধানমন্ত্রী স্বশরীরে জেলা দুটিতে উপস্থিত থাকবেন।
সরকারের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারাদেশে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ভূ-পরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে দেশের বেশ কিছু জেলায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুর ও ফেনী জেলায় এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় খাল খনন অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে সংসদ সদস্য ও সরকারের মন্ত্রীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় এই কার্যক্রম তদারকি করছেন। মে মাসের শেষ দিকে বর্ষা মৌসুমের আধিক্য দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকায় খননকাজের বর্তমান ধাপ মে মাস পর্যন্তই চলবে। পরবর্তীতে আবহাওয়া অনুকূলে আসলে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস নাগাদ পুনরায় পুরোদমে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হবে।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত উক্ত বৈঠকে খাল খনন কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের অন্যান্য বড় সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ‘পদ্মা ব্যারেজ’-এর কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পরিবেশগত প্রভাব ও অর্থনৈতিক উপযোগিতা বিশ্লেষণ শেষে খুব শীঘ্রই এই প্রকল্পের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে খাল খনন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে দেশের সেচ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট নিরসন এবং বর্ষায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে ফসলহানি রোধ করা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর চাঁদপুর ও ফেনী অঞ্চলের স্থানীয় অর্থনীতি এবং কৃষি ব্যবস্থাপনায় নতুন গতিবেগ সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সফরের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।