অনলাইন ডেস্ক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভারত থেকে গবাদিপশু (গরু) আমদানির একটি অনুমতিপত্রকে ভুয়া বলে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। শনিবার প্রকাশিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়, যেখানে বলা হয় প্রচারিত নথিটি সম্পূর্ণভাবে জাল, বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মামুন হাসান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের’ নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অনুমতিপত্র প্রচার করা হচ্ছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে ভারত থেকে গবাদিপশু আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে যাচাই-বাছাই শেষে দেখা গেছে, ওই নথির সঙ্গে কোনো সরকারি অনুমোদন, দাপ্তরিক প্রক্রিয়া বা রেকর্ডের মিল নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অনুমতিপত্রটি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক ইস্যু করা হয়নি। এতে ব্যবহৃত তথ্য, সিরিয়াল নম্বর, সই ও অন্যান্য প্রশাসনিক উপাদান কোনো সরকারি নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এগুলো যাচাইযোগ্য নয়। ফলে এটিকে কোনোভাবেই বৈধ আমদানির অনুমতিপত্র হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ আমদানি-সংক্রান্ত যে কোনো অনুমোদন একটি নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যেখানে একাধিক দপ্তরের যাচাই-বাছাই ও নথিভুক্ত অনুমোদন থাকে। কিন্তু প্রচারিত ওই নথিতে এমন কোনো প্রক্রিয়ার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে গবাদিপশু আমদানি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে, যা জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে দেশের পশু বাজার, ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রমে এ ধরনের ভুয়া তথ্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জনগণ, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে, কোনো ধরনের অপ্রমাণিত বা যাচাইবিহীন তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিতে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত নথি বা তথ্য শেয়ার করার আগে তার উৎস ও সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের ভুয়া নথি তৈরি ও প্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সরকারের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বা জাল নথি তৈরি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গবাদিপশু আমদানি নিয়ে যেকোনো ধরনের গুজব বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ঈদুল আজহার মতো সময়ে পশুর বাজারে সরবরাহ, দাম এবং ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় এর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সরকারি পর্যবেক্ষণে বলা হচ্ছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভুয়া নথি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। এতে শুধু প্রশাসনিক বিভ্রান্তিই নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পুনরায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, গবাদিপশু আমদানি বা প্রাণিসম্পদ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য কেবলমাত্র সরকারি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করে গ্রহণ করা উচিত।