সিলেট — জেলা প্রতিনিধি
সিলেট নগরীর সুরমা নদীর তীরবর্তী এলাকায় নগর সুরক্ষা বাঁধ ও রিভার ড্রাইভ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। শনিবার (২ মে) সকাল পৌনে ১১টার দিকে চাঁদনীঘাট সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রস্তাবিত এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি আধুনিক রিভার ড্রাইভ ও নগর অবকাঠামোর উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও শ্রম, কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সুরমা নদীর তীর ঘেঁষে আধুনিক মানের রিভার ড্রাইভ তৈরি হবে, যা ইউরোপীয় শহরগুলোর অবকাঠামোগত নকশার আদলে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু জলাবদ্ধতা সমস্যা হ্রাসই নয়, নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থাও গড়ে উঠবে। পাশাপাশি পর্যটন খাতসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
প্রকল্পটি সিলেট নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও নদীভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধানের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্ষা মৌসুমে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরীর নিম্নাঞ্চলে প্রায়ই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, যা জনজীবনে ব্যাপক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রস্তাবিত বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ এবং নগর সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রকল্পের আওতায় নদীর তীর বরাবর দীর্ঘ রিভার ড্রাইভ নির্মাণ করা হবে, যা নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি নতুন বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় নদীকেন্দ্রিক অবকাঠামো উন্নয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে রওনা হয়ে সকাল ৯টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে থেকে তিনি সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা করেন। সফরের শুরুতে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর সুরমা নদীর তীরবর্তী চাঁদনীঘাট এলাকায় গিয়ে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে তিনি নগর ভবন প্রাঙ্গণে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেন। সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সিলেট নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।