রাজনীতি ডেস্ক
সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা দেন। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব ও দপ্তর সেলের সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাত মনোনয়ন বৈধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নুসরাত তাবাসসুমের প্রার্থিতা চূড়ান্ত যাচাইয়ে বৈধতা পেয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর তা নির্ধারিত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। মনোনীত প্রার্থীর যোগ্যতা, দলীয় মনোনয়নপত্রের বৈধতা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথ আছে কি না—এসব বিষয় যাচাই শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে নারী সদস্য মনোনীত করে থাকে। সাধারণত সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনসংখ্যা অনুযায়ী সংরক্ষিত আসনের বণ্টন নির্ধারণ করা হয়। এরপর দলগুলো অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয় এবং নির্বাচন কমিশন প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই শেষে তা চূড়ান্ত করে।
নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার মধ্য দিয়ে এনসিপির সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো বলে মনে করা হচ্ছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিছুক্ষণের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করা হবে, যেখানে পরবর্তী করণীয় এবং সাংগঠনিক অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন বৈধতা পাওয়া সংশ্লিষ্ট দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়াগত অনুমোদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি মূলত প্রশাসনিক যাচাইয়ের পর্যায় হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামো এবং সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এর তাৎপর্য রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয় এবং পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর প্রাপ্ত আসন অনুযায়ী সংরক্ষিত নারী সদস্যদের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। এরপরই তারা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলটি সংরক্ষিত আসনে যোগ্য ও অভিজ্ঞ নারী নেতৃত্বকে সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দিতে কাজ করছে। নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণাকে তারা এই প্রক্রিয়ার একটি অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব আরও সুসংগঠিত হবে এবং দলীয় ভিত্তিতে সংসদীয় কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণ বাড়বে।