অর্থনীতি প্রতিবেদক
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে নতুন করে সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শনিবার (২ মে) থেকে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দামের পরিবর্তন এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে এ সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দামে ওঠানামার কারণে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্বর্ণের দামে সমন্বয় আনা হয়েছিল, যেখানে ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। ওই সময়ও ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম একইভাবে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
নতুন নির্ধারিত দরে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকায়। একই সময়ে ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত তেজাবি স্বর্ণের দামে পরিবর্তনই মূলত দেশীয় বাজারে দামের ওঠানামার প্রধান কারণ। বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধি বা হ্রাসের প্রভাব সরাসরি স্থানীয় বাজারেও পড়ে থাকে, যা প্রতিনিয়ত সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে চলতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরিবর্তন দেখা গেছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৬০ বার স্বর্ণের দামে সমন্বয় আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ বার দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ২৭ বার কমানো হয়েছে। এই ঘন ঘন পরিবর্তন স্বর্ণের বাজারে স্থিতিশীলতার অভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে স্বর্ণের দামে এ ধরনের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। স্বর্ণ সাধারণত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়, ফলে চাহিদা বৃদ্ধি পেলে দামও বাড়ে।
দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দামের এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে গহনা ব্যবসা এবং ভোক্তাদের ওপর। বিশেষ করে বিয়ে ও অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে স্বর্ণ কেনার প্রবণতা থাকায় দামের পরিবর্তন ক্রেতাদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঘন ঘন মূল্য পরিবর্তনের কারণে ক্রয়-বিক্রয় পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, স্বর্ণের বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ, স্থানীয় মজুদ ব্যবস্থাপনা এবং নীতিগত সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য পূর্বাভাসভিত্তিক তথ্য সরবরাহ বাড়ানো হলে বাজারে কিছুটা স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা আসতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বর্ণের বাজারে এই মূল্য পরিবর্তন অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতার ওপর নির্ভর করবে।