আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর শুক্রবার (১ মে) জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের চারটি মিত্র দেশ—ইসরায়েল, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কাছে মোট ৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সম্ভাব্য বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এই অনুমোদন এমন এক সময়ে এলো, যখন অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, কাতারের জন্য ৪ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সেবা এবং ৯৯২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল উইপন সিস্টেমস (এপিকিউডব্লিউএস) বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা মূলত নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হয় এবং আধুনিক সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে কুয়েতের জন্য ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের সমন্বিত যুদ্ধ কমান্ড সিস্টেম বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের সিস্টেম সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয়, যোগাযোগ এবং যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহৃত হয়। একই সঙ্গে কুয়েত চুক্তিতে নর্থরপ গ্রুম্যানকেও একটি প্রধান ঠিকাদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলের জন্যও ৯৯২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের এপিকিউডব্লিউএস সরবরাহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই প্রযুক্তি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্ষেত্রেও ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মূল্য ১৪৭ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার। এসব সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রধান ঠিকাদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিরক্ষা কোম্পানি কাজ করবে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কাতার, ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে এপিকিউডব্লিউএস সরবরাহের প্রধান ঠিকাদার হিসেবে থাকবে বিএই সিস্টেমস। পাশাপাশি কাতারের প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ এবং কুয়েতের সমন্বিত যুদ্ধ কমান্ড সিস্টেমের ক্ষেত্রে আরটিএক্স এবং লকহিড মার্টিন প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে।
এই ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও অঞ্চলজুড়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের বড় আকারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন তার দীর্ঘদিনের মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কৌশলগত উদ্দেশ্য এতে প্রতিফলিত হচ্ছে।
এছাড়া এই ধরনের সামরিক চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বড় অঙ্কের এই প্রকল্পগুলো দেশটির প্রধান প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকে। একই সঙ্গে এসব চুক্তি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং চলমান উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি এ ধরনের অস্ত্র সরবরাহ ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিলও করে তুলতে পারে।