বিশেষ প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইউএসএফ) হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের প্রথম জানাজা আজ অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) টাম্পা বে এরিয়ার ইসলামিক সোসাইটিতে এই জানাজা আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, ধর্মীয় আচার ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে জামিল লিমনের মরদেহ আগামী সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে বিশেষ বিমানে ঢাকায় এসে পৌঁছাবে। এর আগে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার লিমনের মরদেহ টাম্পার ফিউনারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে স্থানীয় পুলিশ বিভাগ। মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেট ও স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা এবং সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ হস্তান্তরের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মরদেহ গ্রহণের আগে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেট জামিল লিমনের পরিবারের আনুষ্ঠানিক সম্মতি গ্রহণ করে। ইসলামিক সোসাইটির তত্ত্বাবধানে মুসলিম রীতি অনুযায়ী মরদেহের পরবর্তী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডটি প্রবাসী বাংলাদেশি ও স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। গত ১৬ এপ্রিল জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছিল। নিখোঁজের বেশ কয়েকদিন পর লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। আদালতের নথিপত্র ও প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত নৃশংস এবং পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে এবং সে বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।
নিহত জামিল লিমন সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার অকাল প্রয়াণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিমণ্ডলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এদিকে এই ঘটনায় লিমনের সঙ্গে নিখোঁজ হওয়া অপর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তার বর্তমান অবস্থান বা ভাগ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেট বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিখোঁজ বৃষ্টির সন্ধানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, লিমনের মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। সোমবার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর পর তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং সেখানেও যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হবে। এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মার্কিন বিচার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা বজায় রাখছে।