বিশেষ প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার নিছক রাজনৈতিক স্লোগান বা প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে দেশ গড়তে চায়। আজ সোমবার বিকেলে যশোরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ প্রাঙ্গণে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, তার সরকার কোনো প্রকার রাজনৈতিক সুবিধাভোগী গোষ্ঠী তৈরি না করে বরং জনগণের ক্ষমতায়ন ও টেকসই উন্নয়নে বিশ্বাসী।
জনসভায় উপস্থিত হাজারো নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখেই বর্তমান সরকার পরিচালিত হচ্ছে। তিনি সমবেত জনতার কাছে দেশ গড়ার প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান এবং জনগণের বিপুল সমর্থনকে দেশের অগ্রযাত্রার চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন।
গত ১২ তারিখের জাতীয় নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট বা গণরায়ের ভিত্তিতেই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। জনগণের দেওয়া এই আমানত রক্ষা এবং প্রতিশ্রুত উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তবে একটি চিহ্নিত মহল এই গণরায় মেনে নিতে না পেরে নানাবিধ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে তারেক রহমান বলেন, গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবে যারা নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, তাদের বিচার নিশ্চিত করা এই সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি নাম উল্লেখ না করে রাজনৈতিক মহলের সমালোচনা করে বলেন, যারা অতীতে ফ্যাসিবাদের দোসরদের ক্ষমা করার কথা বলেছিল, তারাই এখন জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যারা বড় বড় কথা বলেন, তাদেরই গোপনে ফ্যাসিবাদের সমর্থকদের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা যাচ্ছে। জনগণের সজাগ দৃষ্টির কারণে এসব অপতৎপরতা রুখে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি প্রান্তে মা-বোনদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করা, শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে হামের টিকার অভাব দূর করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
কৃষি ও অর্থনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকের দোরগোড়ায় সময়মতো এবং সুলভ মূল্যে কৃষি উপকরণ পৌঁছে দেওয়া সরকারের প্রতিজ্ঞার অংশ। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। গ্রামীণ ও শহরের অবকাঠামোগত বৈষম্য দূর করে একটি সাম্যভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
নারীদের কল্যাণে সরকারের নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করে তারেক রহমান জানান, পরিবার কার্ডের সাফল্যের পর সরকার এখন সারা দেশে ‘এলপিজি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে গৃহিণীদের রান্নার দুর্ভোগ ও জ্বালানি ব্যয় লাঘব করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, গত দুই দিন আগে এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি যোগ্য পরিবারের মায়েদের হাতে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বক্তারা সরকারের গৃহীত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। জনসভাকে কেন্দ্র করে যশোর শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে আসা বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের সড়ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।