নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর জ্বালানি তেলের পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং গ্রাহকদের দীর্ঘ সময়ের ভোগান্তি লাঘব করতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রবর্তিত কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ পদ্ধতি কার্যকর হতে শুরু করেছে। সরকারের এই নতুন উদ্যোগের ফলে প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত পাম্পগুলোতে জ্বালানি সংগ্রহের দীর্ঘ সারি ও বিশৃঙ্খলা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। কিউআর কোড প্রদর্শনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পেরে গ্রাহকদের মাঝে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। তবে তথ্য ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ গ্রাহকদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সুষম বণ্টন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে রাজধানীর নির্দিষ্ট কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে এই ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বর্তমানে শাহবাগ, আসাদগেট, বিজয় সরণি, মহাখালী, নিকুঞ্জ ও মিরপুর এলাকার সাতটি নির্বাচিত পাম্পে এই নিয়ম কড়াকড়িভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট এই পাম্পগুলো হলো—শাহবাগের মেঘনা মডেল পাম্প, আসাদগেটের সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশন ও তালুকদার ফিলিং স্টেশন, বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, মহাখালীর গুলশান সার্ভিস স্টেশন, নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার এবং মিরপুর দারুস সালামের খালেক সার্ভিস স্টেশন।
সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আগে যেখানে এক লিটার জ্বালানির জন্য গ্রাহকদের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো, এখন সেখানে মাত্র এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে সেবা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি ব্যাপক কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে নতুন নিয়মে প্রতিটি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ টাকার জ্বালানি বরাদ্দ করা হচ্ছে। গ্রাহকরা নির্ধারিত অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে নিজেদের তথ্য প্রদান করে একটি কিউআর কোড সংগ্রহ করছেন, যা পাম্পে দায়িত্বরত কর্মীদের প্রদর্শনের পর জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ার ফলে জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হচ্ছে এবং একই ব্যক্তির বারবার জ্বালানি সংগ্রহের সুযোগ কমেছে।
শাহবাগের মেঘনা মডেল পাম্পে অপেক্ষারত গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডিজিটাল এই পদ্ধতির কারণে সড়কের ওপর যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ ও বিশৃঙ্খলা কমেছে। তবে পদ্ধতিটি নতুন হওয়ায় অনেক চালক আগাম তথ্য না নিয়ে পাম্পে এসে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। কিউআর কোড বা ফুয়েল পাস না থাকায় অনেককে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি না নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। সাধারণ চালকদের মতে, নিয়মটি ইতিবাচক হলেও প্রচারণার অভাবে তৃণমূল পর্যায়ে এখনও অনেক গ্রাহক এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত নন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জ্বালানি খাতে ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। এর মাধ্যমে অবৈধ মজুত, কালোবাজারি এবং জ্বালানির অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে। রাজধানীর সাতটি পাম্পে এই পাইলট প্রকল্প সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে এই ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে এই ব্যবস্থার পূর্ণ সুফল পেতে হলে প্রযুক্তিগত জটিলতা নিরসন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং অ্যাপের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা গেলে জ্বালানি খাতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করা সম্ভব হবে।