নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে অপতথ্য ও ভুল তথ্যের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউনেস্কোর কারিগরি সহযোগিতায় একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা বা ‘রোডম্যাপ’ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার। আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এই আগ্রহের কথা জানান। বৈঠকে তথ্য প্রযুক্তির বর্তমান যুগে তথ্যের স্বচ্ছতা ও সঠিকতা বজায় রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ বাংলাদেশে সংস্থাটির চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও কারিগরি কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। তিনি বিশেষত বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠা ভুল তথ্য (Misinformation) ও অপতথ্য (Disinformation) রোধে ইউনেস্কোর বৈশ্বিক ভূমিকা ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। ড. ভাইজ জানান, বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রসারের ফলে অপপ্রচারের যে নতুন ধারা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় ‘ফ্যাক্ট-চেকিং’ বা তথ্য যাচাইয়ের কোনো বিকল্প নেই। ইউনেস্কো বর্তমানে এই বিষয়ের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আধুনিক তথ্য যাচাইকরণ পদ্ধতির ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ইউনেস্কোর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গণমাধ্যম এবং তথ্য প্রবাহের আধুনিকায়নে ইউনেস্কোর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ককে আরও সুসংহত করে যৌথভাবে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ভুল তথ্য কেবল রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা নয়, বরং জননিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে একটি টেকসই রোডম্যাপ প্রণয়ন করা জরুরি, যা দেশের গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে দক্ষ করে তুলবে। তিনি প্রযুক্তিনির্ভর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউনেস্কোর বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও কারিগরি দক্ষতাকে কাজে লাগানোর জন্য সংস্থাটির প্রতি আহ্বান জানান।
আলোচনাকালে ইউনেস্কো প্রতিনিধি বাংলাদেশ সরকারকে এই প্রক্রিয়ায় সার্বিক নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, একটি স্বচ্ছ তথ্য পরিবেশ তৈরি করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি গণমাধ্যম নীতিমালা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। ইউনেস্কো বাংলাদেশে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট নীতিমালা সংস্কার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
উক্ত সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিগণ সম্মত হন যে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গুজব ও অপপ্রচার রোধে সম্মিলিত প্রয়াস ব্যতিরেকে তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই রোডম্যাপের রূপরেখা তৈরির প্রাথমিক কাজ শুরু করার বিষয়েও বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা কাঠামো এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।