নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ থেকে পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে এ বছর হজযাত্রীদের সৌদি আরবে গমনের প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হয়েছে। গত চার দিনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ৫৮টি ফ্লাইটে এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ৩৭২ জন হজযাত্রী নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ হজ অফিস। আজ বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিচালক লোকমান হোসেন জানান, হজ যাত্রার চতুর্থ দিন পর্যন্ত কার্যক্রম অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। আজ বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এয়ারলাইন্স এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের মোট ৫৮টি ফ্লাইট হজযাত্রীদের নিয়ে জেদ্দা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে হজযাত্রীদের সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত করতে জেদ্দা ও মক্কায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।
এ বছর বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীকে সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। অবশিষ্ট ৫৪ হাজার ৯০৪ জন হজযাত্রী আগামী দিনগুলোতে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে এয়ারলাইন্সগুলোর বিশেষ ফ্লাইটে সৌদি আরবে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এয়ারলাইনভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। রাষ্ট্রীয় এই বিমান সংস্থার ২১টি ফ্লাইটে মোট ৮ হাজার ৬৭৪ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। অন্যদিকে, সৌদি এয়ারলাইন্সের ২১টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ২৪৭ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ১৬টি ফ্লাইটে ৬ হাজার ৪৫১ জন যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে। এয়ারলাইন্সগুলো হজ যাত্রার শুরু থেকেই শিডিউল বিপর্যয় এড়াতে এবং হাজিদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে সচেষ্ট রয়েছে।
বেসরকারি হজ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মোট ৬৬০টি অনুমোদিত বেসরকারি এজেন্সি হজের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ৩০টি মূল এজেন্সি এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও হজ অফিসের পক্ষ থেকে বেসরকারি এজেন্সিগুলোকে হাজিদের আবাসন, যাতায়াত এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা রোধে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ মনিটরিং সেল কাজ করছে।
উল্লেখ্য যে, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হজযাত্রীদের এই দীর্ঘ যাত্রায় যাতে কোনো প্রকার বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাক-ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সহজ করা হয়েছে। ‘মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ’ এর আওতায় হজযাত্রীরা ঢাকাতেই সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার সুযোগ পাচ্ছেন, যার ফলে জেদ্দা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, হজযাত্রীদের প্রথম বহর যাওয়ার পর থেকেই মক্কা ও মদিনায় অবস্থিত বাংলাদেশ হজ মিশন প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও চিকিৎসা সেবা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে। আগত হজযাত্রীদের সঠিকভাবে দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য সেখানে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক ও হজ গাইড নিয়োজিত রাখা হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে হজযাত্রীদের ভিড় আরও বাড়বে বিধায় ফ্লাইট শিডিউল এবং আনুষঙ্গিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা নিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।