বাংলাদেশ ডেস্ক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিকল্পিতভাবে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি দাবি করেন, একটি সংগঠিত বট নেটওয়ার্ক তার বক্তব্য বিকৃত করে ভুয়া তথ্য ও ছবি প্রচার করছে, যার ফলে শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
শুক্রবার দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নামে ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে প্রচার করা হচ্ছে এবং পরীক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার রুটিন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। ওই তথ্যে দাবি করা হয়, নকল প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হবে না এবং শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলে গিয়ে কোন বিষয়ে পরীক্ষা হবে তা জানতে পারবে। তিনি জানান, এ ধরনের তথ্য সম্পূর্ণ অসত্য এবং এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পরীক্ষার রুটিন সংক্রান্ত যে তথ্যটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচার করা হচ্ছে, তা গুজব। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয় যে, এসএসসি পরীক্ষার রুটিন যথারীতি প্রকাশ করা হবে এবং প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এছাড়া ‘ফেল করলেই এমপিও বাতিল’—এমন একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ার কথাও উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, তার বক্তব্যকে বিকৃত করে এই তথ্যটি প্রচার করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তিনি জানিয়েছিলেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষায় শূন্য শতাংশ পাস হলেও তাৎক্ষণিকভাবে এমপিও (মাসিক বেতন-ভাতা) বাতিল করা হবে না। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে পরীক্ষাসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে গুজব ছড়ালে তা শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বৃদ্ধি এবং প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
প্রযুক্তিনির্ভর এই গুজব ছড়ানোর পেছনে স্বয়ংক্রিয় বট অ্যাকাউন্টের ভূমিকা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ধরনের বট নেটওয়ার্ক নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে একই ধরনের তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সক্ষম, যা স্বল্প সময়ে ব্যাপক মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।
এ প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাচাই করে দেখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সূত্র থেকে প্রকাশিত তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভুল তথ্যের কারণে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।