বাংলাদেশ ডেস্ক
চলতি বছরের হজ কার্যক্রম শুরুর প্রাক্কালে হজযাত্রীদের সেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, হজযাত্রীদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে না পারলে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে থাকার যৌক্তিকতা নেই। তিনি হজ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিতদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
পরিদর্শনকালে ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীরা রাষ্ট্রের অতিথি এবং তাদের সেবায় নিয়োজিতরা ‘খাদেম’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাই তাদের আরামদায়ক, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবার কর্তব্য। তিনি উল্লেখ করেন, হজযাত্রীদের যাত্রা, আবাসন, চিকিৎসা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
এ সময় হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তারা হজক্যাম্পের বিভিন্ন প্রস্তুতি, যাত্রীসেবা কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা এবং ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়সমূহ পরিদর্শন করেন। ধর্মমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা বা হয়রানির অভিযোগ যেন না ওঠে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে। প্রথম ফ্লাইটটি রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবে। এতে মোট ৪১৯ জন হজযাত্রী অংশ নেবেন। এ বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রম উদ্বোধনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রথম দিনের সূচি অনুযায়ী মোট ১৪টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৬টি, সাউদিয়া এয়ারলাইনসের ৩টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ৩টি ফ্লাইট রয়েছে। এসব ফ্লাইটের মাধ্যমে ধাপে ধাপে বাংলাদেশি হজযাত্রীরা সৌদি আরবে পৌঁছাবেন।
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালন করতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজে অংশ নেবেন। হজ ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৭১ সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম সৌদি আরবে পৌঁছেছে। তারা হজযাত্রীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করবেন।
হজযাত্রা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক ধর্মীয় কার্যক্রম হওয়ায় এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ও বিভাগের সমন্বিত কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রেক্ষাপটে সরকার সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছে। বিশেষ করে যাত্রীসেবা, ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সৌদি আরবে অবস্থানকালীন ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও তদারকির মাধ্যমে হজ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখা সম্ভব হবে এবং এতে করে হজযাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।