জাতীয় ডেস্ক
রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার কার্যক্রম বাধ্যতামূলকভাবে নিশ্চিত করতে হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের অজুহাত গ্রহণ করা হবে না। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা কার্যকর না থাকার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত সমস্যাকে অজুহাত হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, পরীক্ষার সময় সিসি ক্যামেরা সচল না থাকার কোনো পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং প্রতিটি কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল ধরনের নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই গুরুত্বপূর্ণ দলিল নষ্ট বা অকার্যকর হওয়া চলবে না। তিনি শিক্ষা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন, পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকারের অবস্থান কঠোর উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা আরও সুসংগঠিত ও কঠোরভাবে প্রয়োগযোগ্য হবে। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সম্ভাব্য মাধ্যমগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের আরও সতর্ক ও সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শূন্য পাসের হার থাকলেও এমপিও (মাসিক বেতন আদেশ) বাতিলের পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত আপাতত মানবিক বিবেচনায় কার্যকর করা হচ্ছে না। তবে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানান এবং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান বিভিন্ন কোটাব্যবস্থা নিয়ে মতামত তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী যোগ্যতার ভিত্তিতে ভর্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাওয়া উচিত। বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনিক পর্যায়ে দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
সভায় তিনি মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ে বলেন, দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তোলা না গেলে তা ভবিষ্যতে জাতীয় উন্নয়নের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
পরীক্ষায় সংগঠিত নকল চক্র বা অনিয়ম প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
মতবিনিময় সভায় রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিব, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।