বাংলাদেশ ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনের সকালের বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের অংশ হিসেবে মোট ২৪টি বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে সকালের অধিবেশনেই ১০টি বিল পাস করা হয়। চলতি অধিবেশনে এ পর্যন্ত মোট ৯১টি বিল পাস হলো বলে জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
শুক্রবার সংসদ অধিবেশনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের উত্থাপনের পর দফাওয়ারী কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় আলোচনার প্রয়োজন হয়নি। ফলে বিলগুলো সর্বসম্মতিক্রমে কণ্ঠভোটে পাস হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদ সচিবালয় সূত্র ও অধিবেশন কার্যক্রম অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ অপরিবর্তিতভাবে এবং ১৫টি সংশোধনসহ আইনে রূপান্তরের সুপারিশ করে। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি বাতিল এবং ১৬টি আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে আনার সুপারিশ করা হয়।
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত সংশ্লিষ্ট আইন ও সংশোধনী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল-২০২৬’, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল-২০২৬’ এবং ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল-২০২৬’। এছাড়া ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের পৃথক বিলও পাস হয়েছে।
অর্থনৈতিক খাতে ‘আমানত সুরক্ষা বিল-২০২৬’, ‘এক্সাইজেস অ্যান্ড সল্ট বিল-২০২৬’, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট সংক্রান্ত বিল পাস হয়। শিক্ষা খাতে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল-২০২৬’ ও বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) বিল অনুমোদন দেওয়া হয়।
এছাড়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ খাতে ‘জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল-২০২৬’ ও ‘সাইবার সুরক্ষা বিল-২০২৬’ এবং পরিবেশ খাতে ‘বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন বিল-২০২৬’ ও ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিল-২০২৬’ পাস করা হয়। স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল-২০২৬’ এবং ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল-২০২৬’ পাস হয়।
অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল-২০২৬’ উত্থাপন করে। সংসদে বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। পাশাপাশি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন একাধিক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনসংক্রান্ত বিলও অনুমোদন পায়।
এদিকে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল-২০২৬’ উত্থাপনের সময় বিরোধী দলের একজন সদস্য বিলটির ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব করেন। তবে কণ্ঠভোটে সেই প্রস্তাব নাকচ হয় এবং বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হয়। একইভাবে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল-২০২৬’-এর ওপর তিনটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও স্পিকার সেগুলো গ্রহণ করেন এবং সংশোধিত আকারে বিলটি পাস করা হয়।
সংসদে বিল পাসের প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অংশে কোনো দফাওয়ারী সংশোধনী না থাকায় আলোচনা সীমিত ছিল এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংসদীয় কার্যক্রমে দ্রুততার সঙ্গে বিপুল সংখ্যক বিল পাস হওয়ায় চলতি অধিবেশনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।