সিলেট — জেলা প্রতিনিধি
দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বাজার ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শনিবার (১১ এপ্রিল) সিলেট সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রায় তিন হাজার কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে কৃষকদের মাঝে কৃষি উৎপাদন সহায়তা হিসেবে বীজ, ডিএপি সার ও এমওপি সার বিতরণ করা হয়। প্রতি কৃষককে মোট ২৫ কেজি কৃষি উপকরণ প্রদান করা হয়, যার মধ্যে ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার অন্তর্ভুক্ত ছিল। স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও মৌসুমি চাষাবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ প্রণোদনা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য খাল পুনঃখনন এবং কার্যকর সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় পলি জমে খাল ও জলাশয়ের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কৃষি ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এসব সমস্যার সমাধানে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, সিলেট অঞ্চলের বাসিয়া খালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সুরমা নদী থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ সুরমা এবং সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত। এসব খাল পুনঃখননের মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা যাবে। এর ফলে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, ভৌগোলিক কারণে দেশের কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা একটি নিয়মিত সমস্যা। এ ধরনের এলাকায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক সেচ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বছরে অতিরিক্ত একটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে, যার ফলে সার, বীজ, কীটনাশক এবং কৃষি ঋণসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ফসল ক্ষতির তথ্য দ্রুত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের সকল কৃষি জমির ধাপে ধাপে ম্যাপিং কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মাধ্যমে কোন অঞ্চলে কোন ফসল সবচেয়ে উপযোগী ও লাভজনক তা নির্ধারণ করে কৃষকদের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের সীমিত আবাদি জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো জমি অনাবাদি রাখা যাবে না এবং সব জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনতে হবে। একই এলাকায় একই ধরনের ফসল চাষের মাধ্যমে সরকারিভাবে সহায়তা প্রদান, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, খাল পুনঃখনন, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি প্রণোদনা কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেটসহ সারাদেশে কৃষি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সরকারের লক্ষ্য হলো কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করে খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী করা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোশনূর রুবাইয়াত। বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাসেম, সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শওকত জামিল।
স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রম কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় হ্রাসে সহায়তা করবে এবং মৌসুমি চাষাবাদে আগ্রহ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।