রাজনীতি ডেস্ক
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঘোষিত বিভিন্ন অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে যারা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে, তাদের পরিণতি ইতিবাচক হয়নি; একইভাবে বর্তমান সরকারকেও এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শ্রমিক প্রতিনিধি ও সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে, তার ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা জনগণের আস্থাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি। নতুন কাঠামোতে শ্রমিকদের ন্যায্য অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
সম্মেলনে বক্তারা শ্রমিক কল্যাণ, মজুরি কাঠামো, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে শ্রমিকদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের অধিকার ও কল্যাণের বিষয়টি এখনও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নিশ্চিত হয়নি।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি সমন্বিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব। এ ক্ষেত্রে কেবল সংসদীয় কার্যক্রম নয়, গণমানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে থেকে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলীয় ও সামাজিক শক্তির মধ্যে সমন্বয় অপরিহার্য। জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে নীতিনির্ধারণ এবং বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
সম্মেলনের শেষাংশে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নতুন কর্মপরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। সংগঠনের নেতারা জানান, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন জোরদার করা হবে এবং সরকারের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।