রাজনীতি ডেস্ক
ঢাকার ধামরাই উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দলটির দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার কালামপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বিকেলে কালামপুর বাসস্ট্যান্ডে এনসিপির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলা উত্তর কমিটির একাংশের নেতা-সমর্থকদের সঙ্গে ধামরাই উপজেলা শাখার নেতা-কর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষ পরস্পরবিরোধী দাবি করেছে। ঢাকা জেলা উত্তর কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে উপজেলা শাখার কিছু নেতা-কর্মী তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, নতুন কমিটি গঠন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের হামলা সংঘটিত হয়েছে।
অন্যদিকে ধামরাই উপজেলা শাখার নেতা-কর্মীদের দাবি, উপজেলার ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গত প্রায় ১৬ মাস ধরে এনসিপির একটি কার্যালয় থেকে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন করে আরেকটি কার্যালয় উদ্বোধনের কারণ জানতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের পর স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা বিরাজ করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দাখিল করেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সাংগঠনিক বিরোধের কারণে এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা নতুন নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে নতুন কমিটি গঠন, কার্যালয় স্থাপন এবং সাংগঠনিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে মতবিরোধ তৈরি হওয়া একটি সাধারণ প্রবণতা হিসেবে দেখা যায়। এ ধরনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে স্থানীয় রাজনীতিতে অস্থিরতা বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এ ঘটনায় আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।