জাতীয় ডেস্ক
লেবাননে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একইসঙ্গে বৈরুতে ওই হামলায় বাংলাদেশি নারী শ্রমিক দিপালী বেগমের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাতেও গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে ঢাকা। শনিবার (১১ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই অবস্থান জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের পরিপন্থী এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার চলমান প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ লেবাননে সাম্প্রতিক সহিংস পরিস্থিতি ও ইসরায়েলি হামলার ফলে বেসামরিক জনগণের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার নিরীহ মানুষের প্রাণহানি রোধে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। সরকার বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বৃদ্ধি শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, বৈরুতে সংঘটিত হামলায় নিহত বাংলাদেশি নাগরিক দিপালী বেগমের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। তিনি কর্মসূত্রে লেবাননে অবস্থান করছিলেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকার গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে। একইসঙ্গে এ কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, লেবাননে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে দিপালী বেগমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে এবং প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তার মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে লেবাননে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী কাজ করেন, যাদের একটি বড় অংশ গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োজিত। যুদ্ধ ও সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে এসব প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় আবারও সেই নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে লেবাননের মতো অস্থির নিরাপত্তা পরিস্থিতির দেশে কনস্যুলার সেবা ও জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত কূটনৈতিক যোগাযোগ ও প্রবাসী সহায়তা ব্যবস্থা কার্যকর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
এদিকে, বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ অব্যাহত রেখেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সংঘাত নিরসনে শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং কূটনৈতিক উদ্যোগই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে।
দিপালী বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশে কর্মরত নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে কর্মরত শ্রমিকদের বিষয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রত্যাবাসন ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বানও উঠেছে।