রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের কাছে যুবদলের নাম ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তি মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে তিনি সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজেও তার উপস্থিতি ও আচরণের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ঘটনার পর রাতেই হাসপাতালে উপস্থিত হন যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা ঘটনাটির বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, অভিযুক্ত মঈন উদ্দিন যুবদলের কোনো পর্যায়ের সদস্য নন এবং তার সঙ্গে সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই। একই সঙ্গে তারা চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, মঈন উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে যুবদলের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ দাবি করে আসছিলেন। অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম জানান, শুরু থেকেই বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি একাধিকবার লোকজন নিয়ে হাসপাতালে এসে কর্মীদের ভয়ভীতি দেখান এবং নিজেকে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন, যার কারণে নিরাপত্তা কর্মীরাও দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
ডা. কামরুল ইসলাম আরও জানান, হাসপাতালটি প্রায় ৪০০ জন কর্মী নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে নিম্ন আয়ের আয়া, নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থাও রয়েছে। তিনি বলেন, রোগীদের সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক চাপ থাকা সত্ত্বেও সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগ ও হুমকির কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে যুবদলের কোনো সম্পর্ক নেই এবং সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্মে জড়ালে তার দায় সংগঠন নেবে না। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যার বড় অংশই প্রকৃত সংগঠন-সংশ্লিষ্ট নয়।
যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, সংগঠনের কোনো নেতা বা কর্মী এ ধরনের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয় এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তারা দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি দলবল নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করে এবং চাঁদার দাবিতে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে একই ব্যক্তি হাসপাতালে এসে চাপ সৃষ্টি করেছেন বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময় থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে হাসপাতালের সামনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টার অভিযোগও করা হয়, যার মাধ্যমে প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল বলে দাবি তাদের।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে ভবিষ্যতে আরও প্রতিষ্ঠান অনুরূপ চাপে পড়তে পারে।