আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সহায়তা থাকুক বা না থাকুক, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি শিগগিরই স্বাভাবিকভাবে উন্মুক্ত করা হবে। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তাঁর এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন এই জলপথে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলবাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ, যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এখানে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক সময়ে এই জলপথকে কেন্দ্র করে ইরানের অবস্থান ও বিভিন্ন ধরনের কূটনৈতিক বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
শুক্রবার পাকিস্তানে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র “উপসাগরীয় অঞ্চল খুলে দেবে” এবং এ ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশও সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এ প্রক্রিয়া সহজ হবে না। তাঁর ভাষায়, “এটা সহজ কাজ নয়, তবে আমরা খুব শিগগির এটি খুলে দেব।”
ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যক্রমকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে কোনো ধরনের “টোল বুথ ব্যবস্থা” বা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না। তাঁর এই মন্তব্য মূলত ওই অভিযোগের প্রতি ইঙ্গিত করে, যেখানে বলা হয় ইরান প্রণালির মাধ্যমে চলাচলকারী জাহাজ থেকে বিভিন্ন ধরনের ফি বা মাশুল আদায়ের মতো ব্যবস্থা চালু করতে পারে।
অন্যদিকে ইরান থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, যুদ্ধ পরিস্থিতি বা বড় ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট ধরনের মাশুল বা চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা থাকতে পারে। এ ধরনের অবস্থানকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ কোনো চুক্তির ক্ষেত্রে এটি একটি অপরিহার্য শর্ত হবে। তাঁর ভাষায়, ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রণালির নিরাপত্তা ও উন্মুক্ত চলাচল নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।