আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে দেশটিতে পৌঁছায় ইরানের এ প্রতিনিধিদল, যারা আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত থাকলেও মার্কিন পক্ষের প্রতি আস্থার ঘাটতির কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর, ডিফেন্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী আকবর আহমাদিয়ান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোল নাসের হেম্মাতি এবং কয়েকজন আইনপ্রণেতা। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ের এসব কর্মকর্তার অংশগ্রহণকে আলোচনাটিকে গুরুত্বের দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, ইরান আলোচনায় সদিচ্ছা নিয়ে অংশ নিচ্ছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থা নেই। তিনি বলেন, “আমাদের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আমাদের কোনো বিশ্বাস নেই।” একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র একটি “প্রকৃত চুক্তির” জন্য প্রস্তুত থাকে, তবে ইরানও আলোচনায় অগ্রসর হতে প্রস্তুত থাকবে।
গালিবাফ আরও বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ফলাফল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যর্থতা এবং প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। তার মতে, পূর্ববর্তী আলোচনাগুলোতে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা বর্তমান আলোচনায়ও প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নিতে একটি প্রতিনিধি দলও পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের এ অংশগ্রহণ আলোচনাকে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু ঘিরে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি (জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন – জেসিপিওএ) নিয়ে অগ্রগতি হলেও পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সরে আসা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
বর্তমান আলোচনাকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠন বা অন্ততপক্ষে উত্তেজনা প্রশমনের একটি সম্ভাব্য সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইরানি পক্ষের প্রকাশ্য অবিশ্বাস এবং অতীত অভিজ্ঞতার নেতিবাচক স্মৃতি আলোচনার ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত এ আলোচনাকে আঞ্চলিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর এই আলোচনার প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে আলোচনার আনুষ্ঠানিক এজেন্ডা বা সময়সূচি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। উভয় পক্ষের অবস্থান ও প্রস্তাবনার ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপে আলোচনা কোন দিকে অগ্রসর হয়, তা পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল।