অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে সোনার দামে সাম্প্রতিক সমন্বয়ের ফলে ২২ ক্যারেট সোনার ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমানো হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত ৯ এপ্রিল নতুন এ মূল্য নির্ধারণ করে, যা শনিবার (১১ এপ্রিল) পর্যন্ত কার্যকর রয়েছে।
সর্বশেষ নির্ধারিত দামে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি কিনতে খরচ হচ্ছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুস জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে এ মূল্য সমন্বয় করা হয়। বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দামে পরিবর্তন হলে দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়ে, যার ফলে প্রায় নিয়মিতই সোনার দাম পুনর্নির্ধারণ করতে হয়।
সোনার নির্ধারিত দামের সঙ্গে ক্রেতাদের অতিরিক্তভাবে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হয়। তবে গয়নার ডিজাইন, কারুকাজ ও মানের ওপর ভিত্তি করে মজুরির পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। ফলে বাস্তবে ক্রেতাদের সোনা কিনতে ঘোষিত দামের তুলনায় কিছুটা বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে সোনার দাম মোট ৫৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২৩ বার হ্রাস করা হয়েছে। এ ঘন ঘন মূল্য পরিবর্তন দেশের স্বর্ণবাজারে অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য প্রবণতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতেও সোনার দামে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে বিনিয়োগ ও অলংকার ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।