খেলাধূলা ডেস্ক
স্প্যানিশ লা লিগায় শিরোপা প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচে জিরোনার বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ফলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দলের সঙ্গে ব্যবধান কমানোর সুযোগ হাতছাড়া করেছে তারা। এই ফলাফলে শিরোপা লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদের অবস্থান আরও চাপে পড়েছে।
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় গতরাতে জিরোনার মাঠে। খেলার শুরুতে দুই দলই সতর্ক অবস্থান নেয়, যার ফলে প্রথমার্ধে উল্লেখযোগ্য আক্রমণ দেখা যায়নি। মাঝমাঠে বল দখল নিয়ে লড়াই চললেও কার্যকর আক্রমণে রূপ দিতে ব্যর্থ হয় উভয় দল। প্রথম ৪৫ মিনিটে গোলের সুযোগ খুবই সীমিত ছিল, যা ম্যাচের ধীরগতির প্রতিফলন।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি বাড়ে এবং আক্রমণাত্মক মনোভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে দুই দলের খেলায়। ৫১তম মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দে দূরপাল্লার এক শক্তিশালী শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। গোলটি রিয়ালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এতে ম্যাচে তারা প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ পায়।
তবে এই লিড দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ৬২তম মিনিটে জিরোনার হয়ে থমাস লেমার ডি-বক্সের বাইরে থেকে একটি নিখুঁত শটে সমতা ফেরান। তার এই গোলটি রিয়ালের রক্ষণভাগের কিছুটা শৈথিল্যের সুযোগ নিয়ে করা হয়, যা ম্যাচে পুনরায় ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে।
সমতায় ফেরার পর রিয়াল মাদ্রিদ আক্রমণের গতি বাড়ায় এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি দলটি। ম্যাচের শেষদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পের একটি সম্ভাবনাময় প্রচেষ্টা জিরোনার গোলরক্ষক পাওলো গাজ্জানিগা দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করেন, যা ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই ড্রয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দলের সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের ব্যবধান কমানো সম্ভব হয়নি। বরং শীর্ষ দল তাদের পরবর্তী ম্যাচে জয় পেলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারে, যা শিরোপা দৌড়ে রিয়ালের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
চলতি মৌসুমে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পয়েন্ট হারানো রিয়াল মাদ্রিদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রক্ষণভাগের দুর্বলতা ও আক্রমণভাগে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা তাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে, সামনে ইউরোপীয় ক্লাব প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়নস লিগে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকায় দলটির ওপর চাপ আরও বাড়ছে। লা লিগায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা বজায় রাখতে হলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জয় পাওয়া রিয়ালের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।