ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান আলোচনা নতুন করে তীব্রতা পেয়েছে। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তামিম ইকবাল বিসিবির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এই পরিবর্তনের পর দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ (ঢাকা লিগ) আয়োজনের প্রক্রিয়াও পুনরায় এগিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী মাসেই লিগ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই লিগ শুরু হলে দেশের ক্রিকেট কাঠামোতে স্বাভাবিকতা ফিরতে পারে। দীর্ঘ বিরতি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে খেলোয়াড়দের অনুশীলন ও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে অংশগ্রহণে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমান বিসিবি বোর্ড ও এর কার্যক্রম ঘিরে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব)-এর সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন সম্প্রতি এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আজ (শুক্রবার) এক বক্তব্যে মোহাম্মদ মিঠুন অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, এটি একটি সংগঠিত প্রচেষ্টার অংশ, যেখানে কিছু গোষ্ঠী বা “বাহিনী” বিভিন্নভাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, কিছুদিন আগে এমন সংগঠিত অনলাইন কার্যক্রমের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল এবং বিসিবির সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালও এ বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন।
মিঠুন আরও দাবি করেন, এ ধরনের প্রচেষ্টা সফল হবে না বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, বাংলাদেশের মানুষের ক্রিকেটের প্রতি আবেগ অত্যন্ত গভীর এবং শেষ পর্যন্ত সেই আবেগই ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই তামিম ইকবাল বলেছিলেন, ক্রিকেটের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করাই তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
ক্রিকেটারদের ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে কোয়াব সভাপতি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রিকেটারদের নিয়ে আলোচনা অনেক সময় যথাযথ প্রেক্ষাপট ছাড়াই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অনেক ব্যবহারকারী সম্পূর্ণ তথ্য না জেনে মন্তব্য করেন, যার ফলে এক ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়। একটি মন্তব্য থেকে অন্য মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মন্তব্যগুলোর যৌক্তিকতা ও সত্যতা অনেক সময় যাচাই করা হয় না। এতে করে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, এ ধরনের প্রবণতা থাকলেও দেশের সাধারণ দর্শকদের ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা এখনো অটুট রয়েছে।
মিঠুনের মতে, সমালোচনা ও আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের দর্শকরা মাঠে ফিরে আসেন এবং খেলোয়াড়দের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঘরোয়া ক্রিকেটের কার্যক্রম নিয়মিত হলে এবং ঢাকা লিগ পুনরায় শুরু হলে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিসিবির নতুন প্রশাসনিক কাঠামো, খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান বিতর্ক—সব মিলিয়ে দেশের ক্রিকেট অঙ্গন একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ঢাকা লিগ শুরু হলে এই পরিবর্তনের প্রভাব মাঠের ক্রিকেটে কীভাবে প্রতিফলিত হয়, তা নিয়ে ক্রিকেট মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।