1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ইরান ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ক্লাস্টার মিসাইল হামলা চালাল সাবেক স্পিকারের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬ পাস, দেশের জলাভূমি ব্যবস্থাপনায় নতুন ধারা শুরু বর্তমানে বাংলাদেশ একমাত্র দেশ, যেখানে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে : জ্বালানি মন্ত্রী ইরানের হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ: আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন চাপ দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ চলছে মার্কিন আকাশে রহস্যময় ‘ডুমসডে প্লেন’ উড্ডয়ন হজ ফ্লাইট ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হবে: ধর্মমন্ত্রী ইরানের সামরিক কমান্ডার হত্যার মধ্য দিয়ে বাহিনীকে দমন করা সম্ভব নয়: খামেনি শামা-তারেক-জাইমাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর পোস্ট: জামায়াতকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬ পাস, দেশের জলাভূমি ব্যবস্থাপনায় নতুন ধারা শুরু

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশ ডেস্ক

জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬’ অনুমোদিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর ও জলাভূমি অঞ্চলের সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনাকে আইনি কাঠামো প্রদান করবে। বিলটি জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের প্রথম অধিবেশনের দশম দিনে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী উত্থাপন করেন। অধিবেশনটি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

আইনটি প্রণয়নের প্রেক্ষাপটে ২০২০ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে জলাভূমি সুরক্ষা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য দ্রুত আইনের প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত হয়। হাইকোর্টের রায় কার্যকর করার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদে বিলটি উপস্থাপন এবং পাস করা হয়েছে।

বিল সংক্রান্ত সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের হাওর ও জলাভূমি অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সেচব্যবস্থা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন এবং কৃষি সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে ১৯৭৭ সালে ‘হাওর উন্নয়ন বোর্ড’ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদফতর’ গঠিত হয়।

আইনের প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, অধিদফতর প্রতিষ্ঠার পর হাওর অঞ্চলের অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, নদীপথে বাধা সৃষ্টি, বিষ ও কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং পর্যটনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় কার্যকর আইনি কাঠামোর অভাব লক্ষ্য করা গিয়েছিল। নতুন আইন এই অভাব দূর করতে, হাওর ও জলাভূমি এলাকার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এবং বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি রোধে সহায়তা করবে।

আইনের মাধ্যমে হাওর ও জলাভূমি অঞ্চলের ব্যবস্থাপনায় সরকারি ও স্থানীয় উদ্যোগকে সমন্বিত করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের জীবিকা ও নিরাপত্তার উন্নয়নের জন্য নীতিমালা নির্ধারণ করা হবে। সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের দায়িত্বের আলোকে আইনটি হাইকোর্টের নির্দেশনা ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, আইন প্রণয়ন হাওর অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা, মৎস্য ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এছাড়া, হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণে সুনির্দিষ্ট আইন থাকায় পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নিশ্চিত হবে।

নতুন আইন কার্যকর হওয়ায় হাওর ও জলাভূমি অঞ্চলের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প, নদীপথ ব্যবস্থাপনা, জলসম্পদ ব্যবহার, মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন এবং কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়িত হতে পারবে। আইনটি স্থানীয় প্রশাসন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করবে এবং হাওরাঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র ও সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এইভাবে, ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬’ বাংলাদেশের জলাভূমি ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণে নতুন আইনি মানদণ্ড স্থাপন করেছে, যা দেশের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নির্ধারক ভূমিকা রাখবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026