অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বক্তব্য রাখার সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ একমাত্র দেশ, যেখানে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ ও সমন্বয়ের একটি নিয়ম রয়েছে এবং এটি প্রতি মাসে পর্যালোচনা করা হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সম্ভাব্য সকল উৎস থেকে তেল সংগ্রহ করছে। একই সঙ্গে, অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংসদে তিনি দেশের তেল মজুত এবং আমদানি সংক্রান্ত তথ্যও তুলে ধরেন। তার মতে, বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৪ মেট্রিক টন ডিজেল মজুদ রয়েছে। এছাড়া এই মাসে ১ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৭১ হাজার ৪৪৩ মেট্রিক টন অকটেন এবং ৩৬ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল আমদানি করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং তেলের ক্রেতাদের উপর প্রভাব কমাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে তেলের জোগান নিশ্চিত করছে। তিনি আরও জানান, জ্বালানি খাতের কার্যক্রম স্বচ্ছ ও কার্যকর রাখার জন্য নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।
জ্বালানি খাত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখায় জনগণ ও শিল্পখাতের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামার কারণে সরকারের এই নীতি দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখা একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকারের নিয়ন্ত্রিত আমদানি ও মজুতের মাধ্যমে বাজারে তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি, সরকারি উদ্যোগ ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অবৈধ ক্রয়-বিক্রয় প্রতিরোধ করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ জনগণ প্রাপ্য জ্বালানি সহজে পেতে পারে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।