বাংলাদেশ ডেস্ক
সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সকাল সাড়ে ১০টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৮টি প্রকল্প উপস্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও চূড়ান্তভাবে ১৭টি প্রকল্প উপস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৯টি নতুন প্রকল্প রয়েছে। এছাড়া পরিকল্পনা মন্ত্রীর অনুমোদিত আরও ৩৩টি প্রকল্পও বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। তবে আলোচিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটি চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই প্রকল্পটি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল ভারতের ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব মোকাবিলা করা। প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
এবারের বৈঠকে বিভিন্ন খাতভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প গুরুত্ব পেয়েছে। নদী, পানি ও জলবায়ু বিষয়ক মোট ৪টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প উল্লেখযোগ্য, যা বগুড়া ও গাইবান্ধা অঞ্চলে বাস্তবায়িত হবে। এছাড়া ময়মনসিংহে জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ, রাজধানীতে জরুরি পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট খাতের প্রকল্পগুলো উপস্থাপন করা হবে।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন খাতে ৫টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর পাশাপাশি সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট ৩টি প্রকল্প, স্বাস্থ্য খাতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণে ২টি প্রকল্প এবং প্রযুক্তি উন্নয়ন ও অংশীদারিত্বমূলক উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট আরও দুটি প্রকল্প উপস্থাপনের তালিকায় রয়েছে। বিশেষ করে আটটি বিভাগে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠকে গৃহীত প্রকল্পগুলো দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রাথমিক রূপরেখা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পগুলোর খাতভিত্তিক বণ্টন থেকে সরকারের অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলো স্পষ্ট হবে, বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো দেশের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, ব্যয় বৃদ্ধি এবং তদারকির ঘাটতি থাকলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া বড় বাজেটের প্রকল্পগুলোতে যথাযথ মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকলে অপচয় ও অনিয়মের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একনেক বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নতুন সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের প্রতিফলন এই বৈঠকের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে এবং তা বাস্তবায়নের ওপর দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির গতি নির্ভর করবে।