আবহাওয়া ডেস্ক
শনিবার (২৮ মার্চ) দেশের ১৫টি অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এ সময় বজ্রবৃষ্টি সহ আচমকা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের ভোর ৪টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জারি করা পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়ের প্রভাব প্রধানত রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলে পড়তে পারে। আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের স্বাক্ষরিত সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা ঝড়ের কারণে নদীবন্দরগুলোর উপর বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোতে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে ঝুঁকি কমাতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ঝড় দেশের উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ নদীমুখের এলাকায় জনজীবন ও নৌপরিবহনে প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে নদীবন্দর ও নৌযান চালকদের পূর্ব সতর্কতা নেওয়ার জন্য বার্তা প্রদান করা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষকেও আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টির কারণে দুর্ঘটনা বা যানজট এড়াতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। এছাড়া খোলা স্থান ও গাছপালার নিচে অবস্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সতর্কবার্তা জারি করা হবে। নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানো হলে নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে চলমান ঝড় সামান্য হলেও ঢেউ ও নদীর পানি বৃদ্ধি করতে পারে। তাই পূর্বাভাস অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ ধরনের আবহাওয়া পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন এবং নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মানুষকে মাইকিং ও টেলিভিশন ও রেডিও বার্তা মাধ্যমে সতর্কবার্তা জানানো হবে।
আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে ঝড়ের প্রকোপ বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নদী ও খালগুলোর পানি বৃদ্ধির কারণে সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই জনগণকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিরীক্ষকরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া এই ধরনের ঝড়ের জন্য অতীতেও উপযুক্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা, স্থানীয় প্রশাসন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।